Published : 09 Mar 2026, 02:16 PM
ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন-এনপিএ।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মুখপাত্ররা বলেছেন “ভারতে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের খবর আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা।”
বিবৃতিতে বলা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
“ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী–এর মত সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সংঘটিত হামলা, এর প্রত্যেকটির বিচার হতে হবে। এই ঘটনাগুলো একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ কিনাও তাও খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমরা মনে করি।”
এনপিএর মুখপাত্ররা বলেন, শুধু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিবৃতিতে তারা তিন দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া, হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং ঘটনায় জড়িত পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা।
বিবৃতিতে এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমী সই করেছেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
রোববার এসটিএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।
গুরুতর আহত হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল