Published : 25 Jul 2026, 10:06 PM
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সন্তানের হাতে দম্পতির মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ, তবে নানা বিষয়ে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হওয়ার কথা শোনা গেছে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা গ্রামের কুনিরবিল এলাকায় খুন হন এই দম্পতি।
নিহতরা হলেন ৬৫ বছর বয়সি স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী ৫৫ বছর বয়সি কল্পনা দাশ গুপ্ত। তাদের ছেলে ৩২ বছর বয়সি রমি রাজ দাশ গুপ্তকে পুলিশ আটক করেছে।
পুলিশ বলেছে, রমি রাজ বেকার ছিলেন। চাকরি-বাকরি না করা এবং বিয়ে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তার প্রায় কথা কাটাকাটি হত। শনিবারও কথা কাটাকাটি হয়, যার একপর্যায়ে ঘটে যায় খুনের ঘটনা।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, রমি রাজ মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে আগে একাধিকবার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা করানো হয়।
শনিবার সকালে মা-বাবার সঙ্গে চন্দনাইশ উপজেলায় গিয়েছিলেন রমি রাজ। দুপুরে সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণ পর এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।
আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রায়ই মা-বাবার সঙ্গে রমি রাজের কথা কাটাকাটি হত। সে কোনো কাজ করত না। তার বিয়ে নিয়েও বিবাদ লাগত।
“আজও মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে কাঁচি ও ঘাস কাটার কাস্তে দিয়ে মাকে গলায় ও ঘাড়ে কোপায় রমি রাজ। তখন বাধা দিতে গেলে বাবাকেও কোপায় সে।”
কল্পনা দাশ গুপ্ত ও স্বপন দাশ গুপ্তের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। তারা কল্পনার নিথর দেহের উপর স্বপন দাশ গুপ্তকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ বাড়ি থেকে কল্পনা দাশ গুপ্তের লাশ উদ্ধার করে। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে স্বপন দাশ গুপ্তকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের আনোয়ারা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে আমরা রমি রাজকে আটক করি। খুন হওয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান রমি রাজ দাশ গুপ্ত।
“উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সে জামালপুরে বিএফএ (ব্যাচেলর অব ফাইন আর্টস) কোর্সে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে দু’বছর পড়ার পর সে ড্রপ আউট হয়। তারপর থেকে বাড়িতেই থাকত।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়রা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গত ৫-৬ বছর ধরে রমি রাজ মাদকাসক্ত। এরমধ্যে একাধিকবার তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে দেয়া হয়। সবশেষ তিন মাস আগে তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আনা হয়।
জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, রমি রাজ মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিল। তবে কেন সে মা-বাবাকে খুন করেছে সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।”
ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রমি রাজকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
আরো পড়ুন