Published : 13 Dec 2025, 09:51 PM
ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন রোকেয়া পদকজয়ীরা।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে চলতি বছরের বেগম রোকেয়া পদক জয়ীরা এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পদক পাওয়া রুবহানা রাকিব, নাবিলা ইদ্রিস, কল্পনা আক্তার ও ঋতুপর্ণা চাকমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
পরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিস্তারিত প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে রোকেয়া পদকজয়ীরা হাদিরও ওপর হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ওই ঘটনায় তারা বিচলিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। নিয়মিত হাদির চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তারাও সহায়তা করছে।”
রোকেয়া পদকজয়ী প্রত্যেকের কর্মস্থল ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর নেন প্রধান উপদেষ্টা।
শ্রম আইনের পরিবর্তন ও শ্রম কনভেনশনে স্বাক্ষর করায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান নারী অধিকারে (শ্রম অধিকার) রোকেয়া পদক পাওয়া কল্পনা আক্তার।
তিনি বলেন, “শ্রম আইনের পরিবর্তন ও কনভেশন- দুটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এত অল্প সময়ের মধ্যে আপনি এটা করে দিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ।
“গত সরকারের আমলে মামলা দিয়ে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দেওয়া হয়েছে। গুলশানের নাভানা টাওয়ার থেকে চশমা লুটের মত অবাস্তব ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন করে, শ্রমিক অধিকারে কাজ করে, এমন কেউ রোকেয়া পদক পাবে এটা আগে কখনো কেউ ভাবেনি। অন্তর্বর্তী সরকারকে এজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কল্পনা আক্তার একজন শক্তিশালী নারী, সবসময় নায্য কথা বলেন। বিশ্বজুড়ে তাকে সবাই সম্মান করে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর যা যা করার কথা ছিল, এর কোনো কিছুই করা হয়নি। শ্রম অধিকার ও কনভেশন এগুলো আমার অগ্রাধিকারে ছিল। চেষ্টা ছিল, যতটুকু পারি করে দিয়ে যাব।”
গবেষক রুবহানা রাকিবের কাছে আইসিডিডিআরবি’র বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদেশি সাহায্য বন্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আইসিডিডিআর’বি ও রোহিঙ্গারা।
ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার কাছেও দলের ব্যাপারে খোঁজ নেন মুহাম্মদ ইউনূস। নারী দলের থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের ব্যবস্থা, দলে নতুন খেলোয়াড় আসছে কিনা, যারা আসছে তারা কেমন পারফর্ম করছে, এসব বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “দেশের সবাই তোমাদের (নারী ফুটবল দল) ভক্ত। তোমাকে বহু ছেলেমেয়েরা অনুসরণ করে। তোমাকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তোমাকে সম্মানিত করার অর্থ হল তোমাকে যারা অনুসরণ করে, তাদেরও অনুপ্রাণিত করা। আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও অনুপ্রাণিত হোক।”
মানবাধিকার ক্যাটাগরিতে রোকেয়া পদকজয়ী নাবিলা ইদ্রিসের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “তুমি শুরু থেকেই তোমার দৃঢ়তার জন্য প্রশংসিত হয়েছ। মানুষের মধ্যে তুমি সাহস জুগিয়েছো। বহু মানুষকে মানবাধিকার নিয়ে সচেতন করেছ। আগামী দিনগুলোতেও যেন তোমার লড়াই অটুট থাকে।”
শত বছরেও কেন আরেকজন রোকেয়া তৈরি হলো না, আক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার
নাবিলা বলেন, “গুমের ঘটনার তদন্ত এবং বিচার এখন যে পর্যায়ে এসেছে এটি ঐতিহাসিক। আপনি না থাকলে আমরা গুম ও জুলাই গণহত্যার বিচার দেখতে পারতাম না।”
অনুষ্ঠানে রোকেয়া পদকজয়ী চারজনকে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক সংগ্রাম ও তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে তার লেখা বই ‘বেলতৈল গ্রামের জরিমন, ও অন্যান্যরা’ উপহার দেন মুহাম্মদ ইউনূস।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।