Published : 26 Mar 2026, 03:06 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন বৃহস্পতিবার এ রিমান্ড আবেদন করেন।
এ বিষয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম ছিদ্দিক আজাদের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী। এসময় শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।
তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
আবেদনে বলা হয়, সন্ধিগ্ধ আসামি শেখ মামুন খালেদ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে ‘পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে’। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, অচেনা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার নিজ ফ্ল্যাট থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
গত সোমবার গভীর রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
তাকে মঙ্গলবার মানবপাচারের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার একদিন পরেই তখনকার আরেক প্রভাবশালী সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন।
প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।
সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। তখন দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।