Published : 03 Dec 2025, 08:27 AM
রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর পর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পেয়ে হতাশ তার পরিবার।
তার বাবা, মামলার বাদী দিলীপ অধিকারী এখন বলছেন, “আইন সাধারণ মানুষের জন্য না। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বিচার পেলাম না। বিচারে যা হয় হোক, সমস্যা নাই।”
২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় অরিত্রীর কাছে মোবাইল পাওয়া যায়। নকলের অভিযোগ এনে তাকে বের করে দেওয়া হয় হল থেকে। টিসি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরদিন মা-বাবাকে ডেকে নিয়ে ‘অপমান’ করে কর্তৃপক্ষ। মা-বাবার অপমান সহ্য করতে না পেরে ৩ ডিসেম্বর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মেয়েটি।
ওই ঘটনায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকার পরদিন পল্টন মডেল তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ অভিযোগ এনে মামলা করেন।
দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় দায়ের করা মামলায় তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক। মোবাইল ফোনে নকল করেছে, এমন অভিযোগে অরিত্রীকে পরদিন তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়।
এজাহারে বলা হয়, দিলীপ অধিকারী স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ওই দিন স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের ‘অপমান করে’ কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও ‘একই রকম আচরণ’ করেন।
এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে দিলীপ দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২০ মার্চ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবির পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার।
অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, ‘নির্দয় ব্যবহার ও অশিক্ষকসুলভ আচরণে’ অরিত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তখনকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস এবং শাখা প্রধান জিনাত আক্তারকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়। আর অরিত্রীর শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। এরপর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। ২০২৩ মালের ২৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করে।
ওইদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় রায় পিছিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাখে আদালত। কিন্তু ওইদিনও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ৩ মার্চ যায়। একই কারণে রায় পিছিয়ে ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করে আদালত।
৯ এপ্রিল পিছিয়ে ৩ মে রায়ের জন্য দিন রাখা হয়। পরে তা পিছিয়ে ২৫ জুলাই ঠিক করা হয়।
শেষ পর্যন্ত গত ২৫ জুলাই রায় ঘোষণার দিনে ঢাকার দ্বাদশ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আব্দুল্লাহ আল মামুন ‘তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি’ পাওয়ার কথা তুলে ধরে পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর নাজনীন ফেরদৌস, জিনাত আক্তার ও হাসনা হেনার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আবু সিদ্দিককে তদন্তভার প্রদান করা হলেও পরে মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) কামরুল হাসান তালুকদার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোছা. হাসনা হেনাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
“কামরুল হাসান জেরায় বলেন, ভিকটিমের (অরিত্রীর) পিতা-মাতা পরদিন গিয়ে টিচার হাসনা হেনার কাছ থেকে বিষয়টি (পরীক্ষার হলে কী ঘটেছিল) জানতে পারেন। হাসনা হেনা পরদিন তাদের বসিয়ে রেখেছিলেন।
“মূলত ভিকটিমের আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে ফিরে গেলে দেখা যায়, ক্লাস টিচার হাসনা হেনার কাছে ভিকটিমসহ তার পিতা-মাতা প্রথমে যায় এবং তিনি তাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন।”
কামরুল হাসান আসামি হাসনা হেনাকে ৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ৯ ডিসেম্বর হাসনা হেনা জামিনে মুক্তি পান।
হাসনা হেনাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির কারণ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, “হাসনা হেনাকে অভিযুক্ত করার মত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বিধায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করলাম।”
বিচারক তার আদেশে বলেন, তদন্তকালে কামরুল হাসান ৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
“প্রথম পাঁচজন সাক্ষী, অর্থাৎ হাসিনা বেগম, আতাউর রহমান, আফসানা আমতু রাব্বী, লুৎফুন নাহার কবির ও বিউটি অধিকারীর জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যায়, জবানবন্দিগুলো হুবহু একই রকম। এমনকি প্রতিটা জবানবন্দিতে শব্দ, দাঁড়ি, কমা একই। অপর চার জনের জবানবন্দিতেও একই জিনিস পরিলক্ষিত হয়। তাদের সাক্ষ্যও হুবহু একই রকম।
“অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাক্ষী আফসানা আমতু রাব্বীর জবানবন্দিতে লেখা আছে, ‘পরীক্ষা চালাকালীন সময়ে পরীক্ষা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা আফসানা আমতু রাব্বী ভিকটিমের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে নেন এবং তাকে পরের দিন পিতা-মাতাসহ স্কুলে আসার জন্য বলেন।’ লক্ষণীয়, আফসানা আমতু রাব্বী তার জবানবন্দিতে আমি শব্দটি ব্যবহার না করে তার নিজের নাম উল্লেখ করেছেন মর্মে দেখা যায়।
“এ থেকে বোঝা যায়, তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রত্যেক সাক্ষীকে পৃথক-পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি অথবা জিজ্ঞাসাবাদ করে নিজের মত করে একই রকম বক্তব্য লিখে সাক্ষীর নামে চালিয়ে দিয়েছেন।”

বিচারক বলেন, “আরও লক্ষণীয়, ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষী ও অনুপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্য একই রকম। অধিকাংশ সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে ক্লাস টিচার হাসনা হেনার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন।”
আদেশে বলা হয়, “কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার তদন্তকালে স্বাধীনতা ভোগ করলেও কোনোক্রমেই তার দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ এ উল্লেখিত বিধিবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই মামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত এবং অনুপস্থিত সকল সাক্ষীর জবানবন্দি হুবহু একই রকম হওয়া অবিশ্বাস্য।
“মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আইনের বিধিবিধান সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল মর্মে সহজে অনুমেয়। এরপরও ‘আসামি হাসনা হেনাকে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যয় নাই’ মন্তব্যে তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কর্মকর্ত হিসেবে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হয়েছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়।”
বিচারক বলেন, “একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার আসামিকে এখতিয়ার বর্হিভূতভাবে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দানের আবেদন করার ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন অথবা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত হয়েছেন মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মাণ হয়।
“আসামি হাসনা হেনা ভিকটিম অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার প্ররোচনার সামগ্রিক ঘটনার সাথে জড়িত আছেন মর্মে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এলেও তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।”
আদেশে বলা হয়, “উপরোক্ত পর্যালোচনার আলোকে এই আদালতের সু-চিন্তিত সিদ্ধান্ত এই যে, মামলাটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনঃতদন্তে পাঠানো আবশ্যক। মামলাটি পুনঃতদন্তে পাঠানোর জন্য রায়ের পর্যায় থেকে প্রত্যাহারপূর্বক আমলে গ্রহণের পর্যায়ে অবনমন করা হল।”
সম্ভব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন–এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন বিচারক।
আদেশে বলা হয়, পুনঃতদন্তকালে নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তার জামিনে থাকবেন। হাসনা হেনার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ‘যথাযথ আইনুনাগ ব্যবস্থা’ নিতে পারবেন।
পুনরায় তদন্তের আদেশের প্রায় ছয় মাস পর ঢাকার দ্বাদশ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নথিটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়। এরপর প্রতিবেদন দাখিলে সাত দফা সময় নিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই।
সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর মামলাটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছিল। কিন্তু পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। ঢাকার তৎকালীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান প্রতিবেদন দাখিলের দিন ৩ ডিসেম্বর ধার্য করেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

নতুন করে তদন্তের অগ্রগতি জানতে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) বনশ্রীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, “মামলাটি নিয়ে কাজ করছি। কিছু বাইন্ডিংস তো থাকে আইনগতভাবে। মামলাটা সেনসেটিভ। আশা করছি, ২/১ মাস, অর্থাৎ ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।”
যে হাসনা হেনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে মামলাটি শেষ পর্যায়ে এসে পুনরায় তদন্তে গেল, তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো তথ্যপ্রমাণ পাননি বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, “মেয়েটা মারা যাওয়ার পর থেকে বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরে বেরিয়েছি। কিন্তু বিচার পেলাম না। মানসিকভাবে ফেডআপ।
“বিচার পেতে এত হেনস্থার শিকার হতে হয়, তারপরও বিচারক কেন যে মামলাটা পুনরায় তদন্তে পাঠালেন বোধগম্য নয়।”
তিনি বলেন, “আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের জন্য আদালতে যেতে পারতাম না। রূঢ় আচরণ করত আমাদের সাথে। আমার স্ত্রী তো কান্নাকাটি করত। সে বলতো, মেয়ে হারিয়েছি। তারপরও তারা আমাদের সাথে এমন আচরণ করে। আমরা পুরোপুরি হতাশ। সন্তান হারিয়েছি।
“মেয়েটা যে নকল করেনি, তা প্রমাণে লড়াই করেছি। মেয়েটা যেন বলতে না পারে, প্রতিবাদ করিনি। কিন্তু আমরা ক্লান্ত।”
শিক্ষক জিনাত আক্তারের আইনজীবী রুবায়েতুল ইসলাম তন্ময় বলেন, “মামলাটা স্পর্শকাতর। মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তে পাঠিয়েছে। পিবিআই তদন্ত করছে।
“আশা করছি, পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসবে, তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত না। তারা অব্যাহতি পাবে।”
এ আইনজীবী বলেন, “স্টুডেন্টটা বেশি আবেগপ্রবণ। নকল করে ধরা পড়ল, আবার পরীক্ষা দিতে চায়। আবেগপ্রবণ মামলা। এই মামলা তো চলেই না। আমরা ন্যায়বিচার আশা করছি।”
পুরনো খবর
অরিত্রীর আত্মহত্যা: ৬ বার রায় পেছানোর পর পুনঃতদন্তের আদেশ
অরিত্রীর আত্মহত্যা: ২ শিক্ষকের বিচারের রায় ২১ জানুয়ারি
অরিত্রীর আত্মহত্যা: ভিকারুননিসার ২ শিক্ষকের বিচার শুরু
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে নীতিমালা করতে কমিটি
অরিত্রীর আত্মহত্যা: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন দুই শিক্ষক