Published : 16 Jul 2025, 09:50 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি ঘিরে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় কারফিউ জারি হওয়ায় গোপালগঞ্জ জেলার বৃহস্পতিবারের এইচএসসির ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা— আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন অন্যান্য জেলা এবং বোর্ডে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতি বলা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের পরীক্ষার্থীরা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় বসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এইচএসসির ভূগোল দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা হওয়ার কথা। আর দুপুর ২টা থেকে হওয়ার কথা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রথমপত্র, আরবি প্রথম পত্র এবং পালি প্রথম পত্রের পরীক্ষা।
বাকি বিষয়গুলোর বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রথমপত্র, আরবি প্রথম পত্র এবং পালি প্রথম পত্রের পরীক্ষার্থী নেই। তাই শুধু ভূগোল দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
এনসিপির এই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলানো হয়।
বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলা হয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন।
দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।