Published : 21 Jul 2025, 09:54 PM
মুজিববর্ষ উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের ব্যয় জানাতে ৬৪ জেলা পরিষদের প্রশাসকের (চেয়ারম্যান কিংবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) কাছে আবার চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এর আগে মে মাসে চিঠি পাঠিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় নতুন করে হিসাব চাওয়ার কথা বলছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম।
সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনে কত ব্যয় হয়েছে, কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তর অর্থ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম ও পরিচয় কী— সেসব তথ্য চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জেলায় কোথায় কোথায় এবং কতটি ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছে, এসব নির্মাণে কত টাকা খরচ হয়েছে, সেই ব্যয়ে কারা সম্পৃক্ত ছিলেন— সেসব তথ্যও বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছে কমিশন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা অপচয় করে মুজিববর্ষ পালন এবং বঙ্গবন্ধুর ১০ হাজারের বেশি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।”
এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে দুদক।
জেলা পরিষদের পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের সত্যায়িত অনুলিপি জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।”
একই অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও তলব করা হয়েছে।
জেলা পরিষদ ছাড়াও বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
গত বছরের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুজিববর্ষে ব্যয় ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর তথ্য দেয় দুদক। চলতি বছরের এপ্রিলে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানানো হয় ।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ছয় অর্থবছরে প্রায় এক হাজার ২৬১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।