Published : 16 Mar 2026, 11:47 PM
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলি করে ও কুপিয়ে এক কলেজছাত্রকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘নারীঘটিত বিষয়’ রয়েছে।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
রোববার রাতে শহীদ মিনারে বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ২৫ বছরের রাকিব আহমেদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
রাকিব টিকটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট বানাতেন। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী।
রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। সেখানে তিন-চারজন এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি মাথায় গুলি করলে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বন্ধু আল-আমিনের বলছেন, ছুরিকাঘাত ও গুলি করার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের চৌমুহনী গ্রামে। তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের কর্মী। বর্তমানে নিমতলী নাজিম উদ্দিন রোডে পরিবারের সাথে থাকতেন রাকিব।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে’ রাকিবকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সাধারণ জনতা হামলাকারী এক যুবককে আটক করে পুলিশে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হামলার সঙ্গে ‘সরাসরি জড়িত আরও দুইজনকে’ শনাক্তের পর নজরদারিতে রাখা হয়েছে, তাদেরকে যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে, বলছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ও হামলাকারীদের একজনের ‘স্ত্রীকে’ নিজের স্ত্রী বানানোর চ্যালেঞ্জের ক্ষোভ থেকে এই হত্যার পরিকল্পনা হয়।”
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “ঘটনার পরপরই এক যুবককে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় গতকাল রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ বলেছে, রাকিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ১০টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া দুটি গুলির চিহ্নও রয়েছে।
যার মধ্যে একটি গুলি মাথার ডান পাশে কানের উপর দিয়ে ঢুকে মাথার বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। আরেকটি পিঠের ডানপাশে লেগেছে।
রাকিবের মা রাজিয়া বেগম বলেছেন, তার ছেলের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, “বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে জান্নাত মুন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আমার স্বামীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে জান্নাত আমার বাসায় যাতায়াত করতো।
“আমাদের বাসায় থাকাকালীন আমার স্বামী টের পায়, জান্নাত কার সঙ্গে যেন ফোনে মাদক বহনের বিষয়ে কথা বলতো। বিষয়টি নিয়ে জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়। এর কিছুদিন পরে ফেইসবুকে কমেন্ট করা নিয়েও জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আবারো হুমকি দেয়। তখন গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়।”
রোববার রাতে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় দেখা করতে গেলে ওই ‘হুমকি প্রদানকারীরাই’ পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করেছে বলে ধারণা স্ত্রীর।
শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “আমাদের টিম অভিযানে আছে, জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যাবে।”
আগের খবর: