Published : 02 Feb 2026, 04:17 PM
দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকায় পেট্রোবাংলার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ ৬ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
দুদকের পৃথক তিন আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আরও যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন-ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, কোম্পানি সচিব রেজাউল ইসলাম, হেড অব রিকোভারি আবু মো. আল মামুন এবং ইডিসিএল এমডি আ. সামাদ মৃধা।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
রফিকুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ/পুন: সংযোগ ও গ্যাস বিল মওকুফ, নিয়োগ, পদোন্নতি ও ঠিকাদারের বিল প্রদান ও বিদেশিদের দেশের গ্যাস মজুদ সংক্রান্ত তথ্য বিক্রির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
সামাদ মৃধার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম। এই আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান দলের নেতৃত্বে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানকালে ‘ওপেন সোর্স’ এবং গোপনসূত্রে জানা যায়, সামাদ মৃধা ইডিসিএল এর বিভিন্ন ক্রয়ে ‘কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য করে অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশ পাচার করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন’। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্টু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
অপর চার আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন সংস্থার উপপরিচালক মশিউর রহমান।
আবেদনে বলা হয়, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, তাই তারা দেশ ছাড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।