Published : 19 Dec 2023, 06:19 PM
হরতালের ভোরে আগুনে চারটি জীবন থেমে গেছে চিরতরে; তবে সেই অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন থেমে থাকেনি, যাত্রী নিয়ে দুপুরেই আবার ঢাকা ছেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার বিকালে কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই ট্রেন যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর দেড়টা। ১০ মিনিট দেরি করে বেলা ১টা ৪০ মিনিটে সেটি স্টেশন ছেড়ে গেছে।
“যে বগিগুলো পুড়ে গেছে, সেগুলো রেখে নতুন বগি যুক্ত করে দিয়েছি।”
এদিন ভোর ৫টার দিকে তেজগাঁও স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নেত্রকোণা থেকে আসা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ট্রেনটির তিনটি বগি পুড়ে যায়। এর একটি বগি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক মা, তার শিশু সন্তানসহ চারজনের লাশ।
খবর পেয়ে ভোর সোয়া ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। তারা আগুন নেভানোর পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে চলে যায়। ওই অগ্নিকাণ্ডকে নাশকতা বলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বিএনপির ডাকা হরতালের মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় আসার পথে নাশকতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের
ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত চলে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। কমলাপুর থেকে দুপুর দেড়টায় ছেড়ে যায় এবং রাত ১১টার দিকে মোহনগঞ্জ থেকে ফিরে আসে।
হরতাল-অবরোধের মধ্যে ট্রেনে নাশকতা ঠেকাতে আগামি কয়েকদিনের মধ্যে ২ হাজার ৭০০ আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
মঙ্গলবার রেলভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, “এ পর্যন্ত ২৭০০ আনসার সদস্য চাওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী দুই একদিনের মধ্যে এই জনবল পেয়ে যাব।”
এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর গাজীপুরের ভাওয়াল ও রাজেন্দ্রপুর রেল স্টেশনের মধ্যবর্তী বনখড়িয়া এলাকায় রেললাইন কেটে ফেলায় ভোররাতে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তাতে একজন নিহত এবং লোকো মাস্টারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর সতর্কতা হিসেবে রাতের ট্রেনের গতি কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তাতে রাতের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে বেশ বিলম্বে, ফেরার বেলায় সেই ট্রেন ছাড়ছেও দেরিতে। ফলে সব ট্রেনেরই সময়সূচিতে গড়বড় দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিএনপি-জামায়াতের দফায় দফায় হরতাল অবরোধে, ঢাকা, সিলেট জামালপুর, জয়পুরহাট, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপিকেই দায়ী করে আসছে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
এই ধরনের ঘটনার পেছনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের যোগসূত্রতা দেখতে পাচ্ছেন মন্ত্রী সুজন। তিনি বলেন, “আগে বাসে ট্রাকে আগুন দিত। এখন সেগুলো কিছুটা কমেছে। এখন রেলকেই আক্রমণের লক্ষ্য বানানো হয়েছে।”
তবে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, সরকার পতনে তারা যে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন, তা থেকে দৃষ্টি ফেরাতে সরকার নিজেরা নাশকতা করে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
আরও পড়ুন
পুরানো খবর:
ট্রেনে নাশকতা ঠেকাতে ২৭০০ আনসারপুরানো খবর:
নাশকতা: গতি কমানোর পর রেল সূচিতে গড়বড়পুরানো খবর:
নাশকতা: রেল চালু করল ‘ট্রলি রান’ ব্যবস্থাপুরানো খবর:
ভোরে ২ ট্রেনের মাঝের এক ঘণ্টায় কাটা হয় লাইন