Published : 10 Jun 2026, 06:37 PM
চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ কমার তথ্য সংসদে তুলে ধরেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ ২ দশমিক ৫৮ দিন ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ২ দশমিক ১ দিনে নেমেছে।
বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন নৌমন্ত্রী।
এমপি শাহজাহান চৌধুরী জানতে চান, ২০২৪-২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গড় সময় কত দিন ছিল, কলম্বো ও সিঙ্গাপুর বন্দরের তুলনায় বাংলাদেশের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেশি কেন। বে-টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল কবে পুরোপুরি চালু হবে এবং এতে জট কতটা কমবে- সেই প্রশ্নও করেন তিনি।
জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, “কলম্বো ও সিঙ্গাপুর মূলত ‘ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট’। এসব বন্দরে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে পরে ছোট জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে কাস্টমস পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না।
“অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর মূলত একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে কাস্টমস পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় ফিডার বন্দরের ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ কিছুটা বেশি হয়।”
মন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট কনটেইনারের পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। বন্দরে আসা আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের প্রায় শতভাগই বাংলাদেশের অভ্যন্তরের জন্য আনা হয় অথবা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানির জন্য পাঠানো হয়।”
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর ফলে গড় ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরো কমবে।
২০৩০ সালের মধ্যে বে-টার্মিনাল চালু হওয়ার আশা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে এবং মাদার ভেসেল প্রবেশে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতা ও নাব্যতার সংকট দূর হবে। বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে।”
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে এর কার্যক্রম চালু হয়েছে। এই টার্মিনাল চালুর পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যের কোঠায় নেমেছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া, বে-টার্মিনালসহ কয়েকটি টার্মিনাল নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের একটি কোম্পানি। সিঙ্গাপুরের পিএসএ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বে-টার্মিনাল-১ নিয়ে।
লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে ডেনমার্কের এপি মোলার-মায়ের্সকের সঙ্গে চুক্তির হওয়ার তথ্য দিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, বে-টার্মিনাল-২ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর বে-টার্মিনাল-৩ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরা করতে চায়।
“এসব টার্মিনাল পুরোদমে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় অর্ধ দিনে নামতে পারে।”
সাতক্ষীরার এমপি নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, “মোংলা বন্দর সচল আছে, তবে এর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। চীনের একটি প্রতিষ্ঠান সেখানে আরো তিনটি জেটি নির্মাণ করছে। সেগুলো শেষ হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে।”
মোংলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং রেললাইন সংযোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন নৌমন্ত্রী। খুলনা, ফরিদপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চলতি বছরের এ পর্যন্ত মোংলা বন্দর থেকে সরকার ১১০ কোটি টাকা আয় পেয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।