Published : 26 Mar 2026, 12:16 AM
পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন স্বদেশ বিনির্মাণের ৫৫তম বার্ষিকীতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছর পেরিয়ে এখন বিএনপির নতুন সরকারের অধীনে চলছে দেশ; উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথচলা থেকে কিছুটা সরে এসে ‘বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক’ সমাজ গড়ার লক্ষ্য তাদের সামনে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে বৃহস্পতিবার উদযাপিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
এ উপলক্ষে গোটা দেশ সেজেছে লাল-সবুজের বর্ণিল সাজে; মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি হৃদয়ে রেখে স্বাধীনতার আনন্দক্ষণ উদযাপনে প্রস্তুত গোটা দেশ।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণীতে স্বনির্ভর, গতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথচলায় ‘দৃঢ় জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের’ ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান।
তিনি বলেছেন, “দীর্ঘদিনের অপশাসন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব দেশ ও দশের ওপর পড়ছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একটি স্বনির্ভর, গতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে। এসময় দৃঢ় জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম খুব জরুরি।
“আমি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কর্মমুখর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত-পথ নির্বিশেষে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানাই।”

মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী বীর সন্তানদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও সর্বস্তরের জনগণকে-যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
তিনি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদেরকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলার সাহস যোগায়।”
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করাই ছিল স্বাধীনতার লক্ষ্য।
“রাষ্ট্র ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।”
স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাণীতে সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
“আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।”

রক্তরাঙা স্বাধীনতা
বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাস রোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, চালিয়েছিল গণহত্যা।
ওই আক্রমণ বাংলাদেশের প্রতিরোধ যুদ্ধের পথ তৈরি করে দেয়; ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করে দেন, বাংলাদেশ এখন স্বাধীন।
পাকিস্তানিরা বন্দি করলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম, মুজিবনগর সরকারের পরিচালনায় নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরে বাঙালি জাতি পৌঁছায় মুক্তির বন্দরে, বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছাড়লে মুক্তি মেলেনি বাংলার মানুষের। জীবন ছিল পাকিস্তানি শেকলে বাঁধা। সেই শেকল ভাঙার মন্ত্র দিয়ে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলেন শেখ মুজিব। বাংলার মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দেয় বঙ্গবন্ধু।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বজ্রবাণীর পর ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের নামে ঢাকাকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী।
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা ইপিআরসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ হলেও পাকিস্তানি সেনাদের ভারী অস্ত্রের সামনে তা বেশিক্ষণ টেকেনি।
মেশিনগান, কামানের গোলার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় শহরজুড়ে।

পৈশাচিক বর্বরতার মধ্যেই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে পাকিস্তানি বাহিনী। তার আগেই বাংলাদেশকে ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করে দেশবাসীর উদ্দেশে তারবার্তা পাঠিয়ে যান তিনি, স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার হয় ইপিআরের ওয়্যারলেস বার্তায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার পর বাংলাদেশে প্রতিরোধ শুরুর খবর আসতে থাকে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে ২৭ মার্চ বিবিসি জানায়, শেখ মুজিবুর রহমান গোপন বেতার থেকে জনসাধারণকে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।
সেই মরণপণ লড়াই চলে পরের নয়টি মাস। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ধরা দেয় বিজয়। বাঙালির আত্মত্যাগ পরিণতি পায় বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের এক নতুন রাষ্ট্রের অবয়বে।
এবার এমন এক সময়ে স্বাধীনতা দিবস এসেছে, যখন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন সরকার পার করেছে এক মাস।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এখন মাঠের রাজনীতিতে নেই। মাঠে নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদানকে খাটো করে দেখানোর বিপরীতে এবার নতুন বাস্তবতায় তাকে সামনে আনা হচ্ছে । অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে জায়গা পায়নি স্বাধীনতার প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম।

কুচকাওয়াজ ফিরছে স্বাধীনতা দিবসে
বিএনপির নতুন সরকারের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ হতে যাচ্ছে।
স্বাধীনতা দিবসে এর আগে কুচকাওয়াজ হয়েছিল সর্বশেষ ২০০৮ সালে। আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে স্বাধীনতা দিবসের পরিবর্তে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ হত।
২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকারের বিদায়ের পর আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বাধীনতা দিবস ও দুটি বিজয় দিবস পেয়েছিল। কিন্তু কোনোবারই কুচকাওয়াজ হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।
ইতোমধ্যে কুচকাওয়াজ আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর। মঙ্গলবার প্যারেড ও সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর চূড়ান্ত মহড়া হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসের যত আয়োজন
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ‘যথাযোগ্য মর্যাদায়; উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সময় ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন, সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকার দৃশ্যমান উঁচু ভবনে বড় আকারের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরাও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার ও জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেবেন রাষ্ট্রপতি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
সকাল ৮টায় দেশের সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও ডিসপ্লে হবে।
দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে হবে আলোচনা সভা। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। মঙ্গলবার ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একইসঙ্গে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন তিনি।
সরকারের তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল ম্যাচ, টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু ইত্যাদি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।
ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলে বিনা টিকেটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত থাকবে। দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দেশের সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে পুনর্বাসন কেন্দ্র ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

ভিন্ন বাস্তবতায় এবারের স্বাধীনতা দিবসে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এর অংশ হিসেবে বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সর্বস্তরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের কথাও বলেছে।
জামায়াত বলেছে, এদিন সকালে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল ও ওয়ারফেজের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে অনুষ্ঠানটি।
পর্বতারোহীদের সংগঠন ‘অভিযাত্রী’ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা’ শুরু হবে। এরপর সন্ধ্যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শপথ পাঠের মাধ্যমে শেষ হবে কর্মসূচি।
এর মধ্যে সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর জাদুঘর মিলনায়তনে হবে শিশু-কিশোর আনন্দানুষ্ঠান।