১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহন: সংবাদকর্মীদের নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার ‘আশ্বাস’

“বিষয়টি শিগগিরই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলেও ইসি আশ্বস্ত করেছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 04:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দিতে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সংবাদকর্মীদের তার আওতামুক্ত রাখার ‘আশ্বাস দিয়েছে’ নির্বাচন কমিশন।

সোমবার নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানিয়েছে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।

নির্বাচন কমিশনের সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের সংগঠনটির সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, “ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরএফইডি। ইসিকে জানানো হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।

“এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বাস দিয়েছে এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি শিগগিরই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলেও ইসি আশ্বস্ত করেছে।”

এর আগে রোববার ইসির এক পরিপত্রে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপির 'নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬' অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুই আনসার সদস্য ফোন রাখতে পারবেন।

মোবাইল ছাড়া সাংবাদিকদের কাজ করা ‘অসম্ভব’

মোবাইল ফোন ছাড়া সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করা ‘অসম্ভব’ বলে মনে করে আরএফইডি।

সংগঠনের সভাপতি কাজী জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়; বরং এটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। আধুনিক সাংবাদিকতায় মোবাইল ফোন ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং অনিয়ম নথিভুক্ত করা কার্যত অসম্ভব।”

সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়,“নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের প্রয়োগ পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”