Published : 27 Jan 2026, 08:22 PM
আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে দুর্গম পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরার কথা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে সেখানকার আদিবাসীরা দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনুন্নত সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বসবাস করেন।
“এমনকি জনগণনার সময়ও প্রান্তিক অঞ্চলে থাকা আদিবাসীরা বাদ পড়ে থাকেন কেবলমাত্র ভৌগোলিক দুর্গমতার মধ্যে বসবাস করবার কারণে। ঠিক তেমনি জাতীয় নির্বাচনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে অনেক আদিবাসী জনগণ বাদ পড়ে থাকেন এই একই কারণে।”
নির্বাচনের আগে-পরে ৪৮ ঘণ্টা নির্ধারিত যানবাহনের বাইরে অন্য যানবাহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে আসা আদিবাসী ভোটারদের ‘অহেতুক তল্লাশি’ ও ‘হয়রানি’ বন্ধ করার আহ্বান জানান জাকির হোসেন।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে ও সমতলে আদিবাসীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় হয়রানির শিকার হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য মোতাবেক অতীতের থেকে যদি এই নির্বাচন ভালো হয়, তাহলে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ভোট দিতে আসা আদিবাসীদের জন্য যাবতীয় সকল সুবিধা দিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।
• দূরবর্তী পাহাড়ের আদিবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে আবাসনসহ খাবারের ব্যবস্থা।
• সমতল ও পাহাড়ে ভোটকেন্দ্রগামী সকল আদিবাসী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করা।
• পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা সময়ভিত্তিক প্রণয়ন, পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও ‘পরোক্ষ সামরিক শাসন’ বন্ধ করা।
• পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে চুক্তি অনুযায়ী যথাযথ ক্ষমতায়ন করা।
• পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করা।
• দেশের মূলধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে আদিবাসীদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা।
• ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে সমতলের আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণ।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
অন্যদের মধ্যে আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমিলা ও লেখক-সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বক্তব্য রাখেন।