Published : 07 Jun 2026, 04:18 PM
ছয় দফা দাবি আদায়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা, পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এর অংশ হিসেবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা।
এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিসৎক পরিষদের সভাপতি মিসবাহ উর রহমান।
কর্মবিরতির পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধনও করেন তারা।
মানববন্ধনে মিসবাহ উর রহমান বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং-সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চলছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের ছয়টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি চলবে।
তবে তাদের কর্মবিরতিতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আউটডোর এবং ইমার্জেন্সিসহ সব রকম সেবা সচল আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
এদিকে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা।
পরে দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করা হয়। এতে শিক্ষানবীশ চিকিৎসক, ট্রেইনি চিকিৎসক এবং মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে চিকিৎসক এ এসএম রশিদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকবিরোধী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরেক চিকিৎসক সাদিয়া প্রত্যাশা বলেন, চিকিৎসক সমাজের যৌক্তিক ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. সি আর মাশিয়েল আলিফ প্রমুখ।

শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের ছয় দফা
তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ‘‘স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন।
এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।
এদিকে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়।