Published : 07 Oct 2025, 01:36 AM
ভোটের চার মাস আগে মাঠ প্রশাসনের ব্যস্ততার মধ্যে জনপ্রশাসন সচিবের গুরুত্বপূর্ণ পদটি ফাঁকা রয়েছে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে।
গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে ‘সময় নিচ্ছে’ অন্তর্বর্তী সরকার। এক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক তদবির ও পরামর্শের চাপে’র কথাও বলেছেন বর্তমান ও সদ্য সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা।
এদিকে জনপ্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলির তদারকিতে গঠিত জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি সোমবার বিকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছে। তবে ওই বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টাকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জামায়াতের একাধিক প্রার্থী বা অপশন রয়েছে।”
নতুন জনপ্রশাসন সচিবের হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী ও অবসরে যাওয়া সিনিয়র সচিব মো. শামসুল আলমের নাম প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা পড়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক বলছেন, নতুন জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনো কোনো ফাইল আমার দপ্তরে আসেনি। ফাইল এলে বুঝতে পারব।”
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ অগাস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই জায়গায় সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাকে আওয়ামী লীগ সরকার অবসরে পাঠিয়েছিল।
দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও এক বছর পর গত ২১ সেপ্টেম্বর মোখলেসুর রহমানকে সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে গণহারে জেলাপ্রশাসক বদলাতে গিয়ে বিপুল ‘আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে শিরেনাম হয়েছেন মোখলেসুর রহমান। যদিও সেসব অভিযোগের ‘বিন্দু বিসর্গেরও সত্যতা নেই’ বলে তিনি দাবি করেছেন।
বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু শাহীন মো. আসাদুজ্জামান সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।
সদ্য অবসরে যাওয়া একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার চাইছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কাউকে দায়িত্ব দিতে। কারণ এর আগে তড়িঘড়ি করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে এমন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বিতর্কের মুখে যাদের পরে সরিয়ে দিতে হয়েছে।
“জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ভুল আর করতে চায় না সরকার। তাই এক্ষেত্রে একটু সময় নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে সরকারের শীর্ষ মহল।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মানসুর হোসেন বলেন, নতুন সচিব নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনো তারা পাননি।
জনপ্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলির তদারকিতে গঠিত জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি সোমবার বিকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছে। সেখানে কমিটির সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ অন্য সদস্যরা ছিলেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে কমিটিতে থাকা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বাদ রেখে উপদেষ্টারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করেন।
ওই বৈঠকে ‘জনপ্রশাসন সচিব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হতে পারে বলে এক কর্মকর্তা ধারণা দিয়েছেন।