Published : 31 Aug 2013, 06:32 PM
শনিবার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ মোহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। তাই যেকোনো মূল্যে রামপালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে হবে।
কয়লাভিত্তিক এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আগামী ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকার এই নির্মাণ কাজ থেকে ফিরে এলে লংমার্চ কর্মসূচি বাতিল করা হবে, কিন্তু সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধনের চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে, বলেন শহীদুল্লাহ।
লংমার্চের অংশ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট শহরে জনসভা এবং খুলনা-মংলা সড়কের কয়েকটি স্থানে পথসভা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংগঠনের সদস্য সচিব আনু মোহম্মদ এই প্রকল্পের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকের বিষয় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই অসম চুক্তিতে বাংলাদেশকে এককভাবে সত্তর ভাগ ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। মূলধনের মাত্র পনেরো ভাগ বিনিয়োগকারী ভারতকে তার বিনিয়োগ ও লভ্যাংশ ফিরিয়ে নিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। এটা জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী।
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ জানান, এখানে ১৩২০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্তাপন করার কথা। কিন্তু এ ধরনের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেই বছরে মারাত্মক ক্ষতিকর ৭৯ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড, ৫২ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড, ৩১ হাজার টন নাইট্রোজেন অক্সাইড, এক হাজার ৯০০ টন কার্বন মনোক্সাইড, ৪৪০ পাউন্ড পারদ, ৩০০ পাউন্ড সীসা নিঃসরণ হবে।
তাছাড়া একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে সাত লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই এ্যাশ ও দুই লাখ টন বটম এ্যাশ বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করতে হবে, যা প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে তেরো হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌপথে এই কয়লা পরিবহন করা হলে সুন্দরবনে ব্যাপক মাত্রার পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণ হবে, যা সুন্দরবনের বনজ ও জলজ প্রাণিসম্পদ এবং এই বনের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট ধ্বংস করবে। ফলে বন উজাড় হয়ে ভয়ানক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ ফিরোজ, আব্দুস সালাম, নজরুল ইসলাম, কল্লোল মোস্তফা, বাগেরহাট জেলা কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সদস্য সচিব ফররুখ হাসান জুয়েল ও রামপাল কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি সুশান্ত দাস।
এছাড়াও ছিলেন বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাফফর হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাটের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী সমাদ্দার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বাদশা, বাগেরহাট পৌর সিপিবি সভাপতি মানিকলাল মজুমদার, আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলী বাবুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।