আছে কত নদী, দখলমুক্তের পরিকল্পনা কী: হাই কোর্ট
দেশে নদ নদীর প্রকৃত তালিকা এবং দখলমুক্ত করার কার্যক্রমের বিভাগভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
আগামী ৫ জুনের মধ্যে তালিকা ও কর্মপরিকল্পনা আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই দিন পরবর্তী আদেশও দেবে আদালত।
রোববার সাত সচিবসহ, নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারকে এ নির্দেশ দেয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাই কোর্ট বেঞ্চ।
নদী দখলমুক্ত করার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেয় আদালত।
দেশের সব নদী চিহ্নিত করা, দখল থেকে নদী রক্ষা, দখলকারীদের উচ্ছেদ এবং সঠিকভাবে তুরাগ নদীর সীমানা পিলার স্থাপনে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অংসাবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
সেই সঙ্গে নদীর তালিকা প্রস্তুত, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন অনুযায়ী ও নদী রক্ষা কমিশনের চিহ্নিত দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
ভূমি সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ সচিব, নৌ পরিবহন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
রিজওয়ানা হাসান পরে সাংবাদিকদের বলেন, দেশের নদ-নদীর সংখ্যা নিয়ে একটি অসঙ্গতি রয়ে গেছে। নদী দখলদার উচ্ছেদে আমরা দেখছি কোনো জায়গায় কাজ হচ্ছে, আবার কোনো জায়গায় কাজ হচ্ছে না।
“একইভাবে আদালতের নির্দেশ থাকার পরও তুরাগ নদীর সীমানা ভুলভাবে চিহ্নিত করে দখলদারদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, হচ্ছে।“
নদীগুলোকে দখলমুক্ত করতে সামগ্রিক কর্মপকিল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে এ মামলা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আদালত এতে রুলসহ আদেশ দিয়েছেন।
নদী রক্ষা কমিশনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ঢাকার নদ-নদীর ৫০ ভাগ দখলমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বরিশালে মাত্র ৭ ভাগ দখলমুক্ত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য জায়গায় দখলদাররা কিন্তু জেঁকে বসেছেন এবং ভূমি জরিপ জালিয়াতি করে দখলকে বৈধ করে নিচ্ছেন। সে কারণে উচ্ছেদ অভিযানও হচ্ছে না।
আইনজীবী রিজওয়ানা বলেন, নদী রক্ষা কমিশন ৫৭ হাজার নদী দখলদারদের যে তালিকা করেছে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দখলের যে চিত্র এসেছে, সেসব বিবেচনায় নিয়ে নদী দখলমুক্ত করার বিভাগভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং নদী সংক্রান্ত সব গবেষণা বিবেচনায় নিয়ে ছয় মাসের মধ্যে নদীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে আদালতে জমা দিতে বলেছেন।
প্রায় ৪০০ বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। এক সময় এ নদী জোয়ার ভাটায় রূপ বদলাত। ঢাকা যত বেড়েছে, বুড়িগঙ্গা হারিয়েছে তার প্রাণশক্তি। মানুষ আর কলকারখানার বর্জ্যে এ নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়ে পড়ে যে, এ নদী থেকে হারিয়ে যায় মাছও। বছরের পর বছর ধরে বুড়িগঙ্গার দুই তীর দখল হতে থাকায় এ নদীর প্রবাহও বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে।
নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট নদী রয়েছে ৪৯৬টি। আর ‘বাংলাদেশের নদ-নদী’ শিরোনামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকাশনায় নদ নদীর সংখ্যা বলা হয়েছে ৪০৫টি।
আবার গবেষক ম. ইনামুল হক তার গবেষণায় এক হাজার ১৮২টি নদীর তালিকা দিয়েছেন।
আবদনে বলা হয়েছে, নদীর সংখ্যা সঠিক না হওয়ায় দখলদারের সংখ্যাও সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।
নদী রক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দখলদারের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৩৯০ হলেও সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
এদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে ৬৫ হাজার ১২৭ জন দখলদারের কথা উল্লেখ করেছেন।
