ছয় নদীর এলিজি

চারশ বছর আগে যে ঢাকার জন্ম হয়েছিল নদীর তীরে, সেই শহরের চারপাশের নদীগুলোই এখন মরতে বসেছে। ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী আর বংশী- এই ছয় নদী এখন বিপর্যস্ত দূষণ আর দখলে।
  • প্রায় ৪০০ বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। এক সময় এ নদী জোয়ার ভাটায় রূপ বদলাত। ঢাকা যত বেড়েছে, বুড়িগঙ্গা হারিয়েছে তার প্রাণশক্তি। মানুষ আর কলকারখানার বর্জ্যে এ নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়ে পড়ে যে, এ নদী থেকে হারিয়ে যায় মাছও। বছরের পর বছর ধরে বুড়িগঙ্গার দুই তীর দখল হতে থাকায় এ নদীর প্রবাহও বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রায় ৪০০ বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। এক সময় এ নদী জোয়ার ভাটায় রূপ বদলাত। ঢাকা যত বেড়েছে, বুড়িগঙ্গা হারিয়েছে তার প্রাণশক্তি। মানুষ আর কলকারখানার বর্জ্যে এ নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়ে পড়ে যে, এ নদী থেকে হারিয়ে যায় মাছও। বছরের পর বছর ধরে বুড়িগঙ্গার দুই তীর দখল হতে থাকায় এ নদীর প্রবাহও বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে।

  • ঢাকা শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা। এক সময় এ নদীর রূপও মানুষের মন কাড়তো। এ নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল মসলিন শিল্প। এখন এর পানি এতটাই দূষিত যে শীত মৌসুমে দুর্গন্ধে নদী তীরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শীতলক্ষ্যার দুই তীরেই বহুবছর ধরে গড়ে উঠেছে নানা রকম শিল্প কারখানা। এসব কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যই এ নদী দূষণের মূল কারণ। শীতলক্ষ্যার দুই তীরও রক্ষা পায়নি প্রভাবশালীদের দখলের হাত থেকে।

    ঢাকা শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা। এক সময় এ নদীর রূপও মানুষের মন কাড়তো। এ নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল মসলিন শিল্প। এখন এর পানি এতটাই দূষিত যে শীত মৌসুমে দুর্গন্ধে নদী তীরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শীতলক্ষ্যার দুই তীরেই বহুবছর ধরে গড়ে উঠেছে নানা রকম শিল্প কারখানা। এসব কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যই এ নদী দূষণের মূল কারণ। শীতলক্ষ্যার দুই তীরও রক্ষা পায়নি প্রভাবশালীদের দখলের হাত থেকে।

  • ঢাকা শহরের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরীর জল দূষণের কবলে পড়ে রঙ হারিয়েছে। ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে স্থানান্তর করার পর নতুন করে ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে এ নদী। অনেক কারখানার কঠিন ও তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, ট্যানারিতে উৎপাদিত কেন্দ্রীয় শোধনাগারের (সিইটিপি) দূষিত পানিও যাচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে। দুই তীরে প্রভাবশালীদের দখলের দৌরাত্মও রয়েছে।

    ঢাকা শহরের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরীর জল দূষণের কবলে পড়ে রঙ হারিয়েছে। ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে স্থানান্তর করার পর নতুন করে ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে এ নদী। অনেক কারখানার কঠিন ও তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, ট্যানারিতে উৎপাদিত কেন্দ্রীয় শোধনাগারের (সিইটিপি) দূষিত পানিও যাচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে। দুই তীরে প্রভাবশালীদের দখলের দৌরাত্মও রয়েছে।

  • ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ এখন এক মৃতপ্রায় নদী। শহর আর কলকারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য তুরাগ নদের পানির দূষণের মাত্রা বাড়িয়েছে বহুগুণ। শত শত ইটভাটা আর কলকারাখানা গড়ে উঠেছে এ নদীর দুই তীর দখল করে। দূষণ আর দখলে তুরাগের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে শীত মৌসুমে কোথাও কোথাও একে মনে হয় মরা খাল!

    ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ এখন এক মৃতপ্রায় নদী। শহর আর কলকারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য তুরাগ নদের পানির দূষণের মাত্রা বাড়িয়েছে বহুগুণ। শত শত ইটভাটা আর কলকারাখানা গড়ে উঠেছে এ নদীর দুই তীর দখল করে। দূষণ আর দখলে তুরাগের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে শীত মৌসুমে কোথাও কোথাও একে মনে হয় মরা খাল!

  • ঢাকা শহরের উত্তর-পূর্ব পাশের বালু নদীও এখন মরতে বসেছে। বর্ষা মৌসুমে এ নদী শীতলক্ষ্যা ও তুরাগের পানি বহন করলেও শীত মৌসুমে পানিতে টান পড়ে। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা কলকারখানা ও মানুষের ফেলা বর্জ্যে নদীটি এখন দূষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

    ঢাকা শহরের উত্তর-পূর্ব পাশের বালু নদীও এখন মরতে বসেছে। বর্ষা মৌসুমে এ নদী শীতলক্ষ্যা ও তুরাগের পানি বহন করলেও শীত মৌসুমে পানিতে টান পড়ে। নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা কলকারখানা ও মানুষের ফেলা বর্জ্যে নদীটি এখন দূষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

  • ঢাকার সাভারের পাশ দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ের খরস্রোতা বংশী এখন দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীর দুই পাশের তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। শত শত কলকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে।

    ঢাকার সাভারের পাশ দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ের খরস্রোতা বংশী এখন দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীর দুই পাশের তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। শত শত কলকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে।

Print Friendly and PDF