পরিবেশের ডিজিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
সাভারের বংশী নদীর সীমানা দখলকারী ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন না দেওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়েছে হাই কোর্ট।
ঢাকার জেলা প্রশাসক, সভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাভার থানার ওসিকেও এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশ প্রতিপলন না করায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার স্বঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. বাকির হোসেন মৃধা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
‘দখল-দূষণে শেষ বংশী নদী’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে হাই কোর্টে এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাকির হোসেন মৃধা। প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছরের ২ ডিসেম্বর আদালত রুলসহ আদেশ দেয়।
বংশী নদীর সীমানায় মাটি ভরাটের মাধ্যমে দখল প্রতিরোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা কেন ‘বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
সেই সাথে নদীর সীমানায় মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী কমিশন, স্থানীয় সরকার সচিব, ভূমি সচিব, বন ও পরিবেশ সচিব, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সাভার ও আমিন বাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও সাভার থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
বিবাদীদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও সাভার থানার ওসিকে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বংশী নদীর সীমানা দখল করে মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে এবং দখল ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের চিহ্নিত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে।
আইনজীবী মো. বাকির হোসেন মৃধা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা বংশী নদীর সীমানা দখল ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের চিহ্নিত করে যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, তারা তা দেয়নি। সে কারণে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা জানতে এ বিবাদীদের হাজিরা চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি।
“আদালত স্বঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে।”
