৮৫ হাজার ডলার ছাড়াল বিটকয়েন, জানুয়ারির পর রেকর্ড উচ্চতায়
এ বছরে বিটকয়েন সার্বিকভাবে পতনের মুখে থাকলেও গত পাঁচ দিনে তা সাত শতাংশেরও বেশি এবং গেল তিন মাসে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে অবশেষে গতি ফিরতে শুরু করেছে।
সোমবার দাম বেড়ে ৮৫ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে বিটকয়েন, যা জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
‘কয়েনমেট্রিক্স’-এর তথ্য অনুসারে, এদিন সকালে বিটকয়েন প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৪ হাজার ২৫৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
দিনের শুরুতে বিটকয়েনের দাম একপর্যায়ে ৮৫ হাজার ২২৯ ডলারে পৌঁছায়, যা গত জানুয়ারির শেষদিক থেকে সর্বোচ্চ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
গেল বছরের অক্টোবরে বিটকয়েন সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম ১ লাখ ২৬ হাজার ডলার পোরনোর পর শুরু হওয়া দীর্ঘ ও মন্দা বাজার এবার কাটতে শুরু করেছে কি না তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার সিএনবিসি’র ‘স্কোয়াক বক্স ইউরোপ’ অনুষ্ঠানে ‘বিটওয়াইজ’-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার ম্যাট হাউগান বলেছেন, “আমি মনে করি ক্রিপ্টোর শীতকাল শেষ হয়ে গেছে। এখন ক্রিপ্টো বসন্ত। ক্রিপ্টোর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী বাজার হতে চলেছে।”
এ বছরে বিটকয়েন সার্বিকভাবে কিছুটা পতনের মুখে থাকলেও গত ৫ দিনে তা ৭ শতাংশেরও বেশি ও গেল ৩ মাসে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটা এখনও এর রেকর্ড উচ্চদাম থেকে বেশ দূরেই রয়েছে।
হাউগান বলেছেন, বাজার কিছুদিন নিম্নমুখী থাকলেও ক্রিপ্টোর মূল ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। এ সময় ব্লকচেইনগুলোতে লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ব্ল্যাকরকের মতো বড় বড় কোম্পানির সম্পৃক্ততাও বেড়েছে।
“আমার ধারণা, আমরা এমন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলাম, যেখানে মূল ভিত্তির কাঠামোগত উন্নতির পরও দামের চক্রাকারে পতন ঘটেছিল।
“এখন আমার মনে হচ্ছে, বছরের শেষদিকে দাম এই উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও ওপরে উঠবে। আমার মনে হয় না যে, আগামী বছর আমরা এখনও সেই সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের নিচেই থাকব।”
এদিকে, বিটিআইজি’র অ্যানালিস্টরা রোববার বলেছেন, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে ৭৫ হাজার ডলারের স্তরটি অক্ষুণ্ণ থাকা সাপেক্ষে ‘ঊর্ধ্বমুখী ধারার সমর্থকরা ৯০ হাজার ডলারের দিকে যাওয়ার পথে ৮২ হাজার ডলারের ঘর পেরনোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন।”
সোমবার মার্কিন প্রিমার্কেট ট্রেডিংয়ে স্ট্র্যাটেজি ও কয়েনবেইসের মতো ক্রিপ্টো-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর দরও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে ‘ক্লারিটি অ্যাক্ট’ বিলটি পাস আটকে যাওয়ার পরও ক্রিপ্টোর বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য নির্দিষ্ট এক আইনি কাঠামো তৈরি হত ও ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ বা এসইসি ও ‘কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন’-এর বা সিএফটিসি’র মধ্যে শিল্পখাতের তদারকি ভাগ করে দেওয়া হত।
এর আগে, গেল বছর পাস হওয়া ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’-এর মতো যুক্তরাষ্ট্রের আরও কঠোর আইন ক্রিপ্টোর দামকে সমর্থন জুগিয়েছিল।
তবে বিটওয়াইজের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ম্যাট হাউগান বলেছেন, ক্লারিটি অ্যাক্ট পাস না হওয়ার পরও ক্রিপ্টোর দাম বাড়াতে তা সহায়তা করতে পারে। কারণ আপাতত এসইসি ও সিএফটিসি’ই নিয়মকানুন নির্ধারণ করবে।
