২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্প-তারেকের বৈঠকের সুযোগ আছে? যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন

“এখানে বাংলাদেশের ডোমেস্টিক রাজনীতি আলাপ-আলোচনার খুব কমই জায়গা পাবে।”

ট্রাম্প-তারেকের বৈঠকের সুযোগ আছে? যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: বাসস

সুমন মাহমুদ

নিউ ইয়র্ক থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 10:42 AM

Updated : 22 Sep 2026, 11:09 AM

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউ ইয়র্কে পৌঁছার পর এ সফর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে তার প্রতিনিধি দল।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় সরকারপ্রধানের আবাসস্থল ম্যানহাটনের ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সেখানে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, চারদিনের সফরে ১০টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ তো আছেই। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদাভাবে বা কোনো বৈঠকের সুযোগ বা জায়গা তৈরি হয়েছে?

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “এটা বাইল্যাটারাল ভিজিট না, মাল্টিল্যাটারাল ভিজিট। সো দ্য পারপাস অব ইট ইজ অ্যাড্রেসিং ইউএন জেনারেল অ্যাসেম্বলি। এবং বাইল্যাটারাল ভিজিটের যখন আমরা সুযোগ পাই অন্যভাবে, কথাবার্তার মাধ্যমে ইতিমধ্যে আপনারা জানেন ডনাল্ড ট্রাম্প চিঠি দিছেন; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উনি আগ্রহ প্রকাশ করছেন বৈঠকের। তবে সেটা বাইল্যাটারাল।

“ওইটা আমরা পরবর্তীতে বাইল্যাটারাল ভিজিটের মাধ্যমে উপযুক্ত সময়ে, দুই পক্ষের সুবিধামত আমরা বিবেচনা করব। বাট এই ভিজিটের পারপাস হচ্ছে ইউনাইটেড নেশনস। তো এখানে ইউএনের আওতার বাইরে অন্য কিছুর বাইল্যাটারাল আলাপ-আলোচনার তেমন অতো সুযোগ থাকবে না।”

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ দিয়ে গত ৩১ অগাস্ট চিঠি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি শিগগিরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।

তিনি লেখেন, “বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আপনার চিঠিটি আমি এইমাত্র পেয়েছি। উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

“বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।”

এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, “এখানে ডোমেস্টিক রাজনীতি নিয়ে তেমন আমরা আলাপ-আলোচনা করব না। এখানে মূল কাজ হবে দেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরা, উনার (তারেক রহমান) নেতৃত্ব আগামী দিনে বাংলাদেশ কীভাবে—আই মিন আফটার দ্য ফলোয়িং ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন—কী কী পলিসি নিয়ে এগুচ্ছে, কী ভিশন আগামী নতুন বাংলাদেশের জন্য তৈরি হচ্ছে এবং উনি এটাই মানে হি উইল শেয়ার উইথ দ্য ওয়ার্ল্ড কমিউনিটি হিয়ার।

“তো এখানে মাল্টিল্যাটারাল কথাবার্তাই বেশি গুরুত্ব পাবে। এবং এখানে বাংলাদেশের ডোমেস্টিক রাজনীতি আলাপ-আলোচনার খুব কমই জায়গা পাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন বলেন, “অনেকেই জানতে চেয়েছেন—এবার আমাদের বহরের সংখ্যাটা কেমন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সনাতনী ধারাকে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত সফরে ছোট একটা বহর নিয়ে এসেছেন আনুষ্ঠানিকভাবে। এখানে ৩৩ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় বা অত্যাবশ্যকীয় মিডিয়া, সিকিউরিটি এবং পার্সোনাল কিছু স্টাফ…

“আমাদের এই স্বল্প যে বহর বা সফরসঙ্গীর আসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক যেকোনো আলাপ-আলোচনায় যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ এবং গণমানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে পারেন।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

বোয়িং কেনায় তারেককে ট্রাম্পের ধন্যবাদ, শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা