Published : 02 Sep 2025, 03:49 PM
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি থেকে বহিষ্কারের পর সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটির তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে ‘নতুন নেতৃত্ব’।
নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিবের কাছে লেখা চিঠিতে নতুন কমিটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব হিসেবে যথাক্রমে মো. শামসুদ্দিন পারভেজ ও মহাসচিব মুহাম্মদ আবু হানিফের সই রয়েছে।
ইসির উপসচিব মাহাবুব আলম শাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চিঠি পেয়েছি। এখন সেটি কমিশনের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।”
‘নতুন নেতৃত্বের’ দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল হিসেবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির পরিবর্তিত দাপ্তরিক ঠিকানা, চেয়ারম্যান ও মহাসচিব-এর পরিবর্তিত নাম নিবন্ধিত হওয়া আবশ্যক। এ বিষয়ে পার্টির গঠনতন্ত্রে কমিশনকে অবগতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।”
এ বিষয়ে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কথিত নতুন কমিটির সদস্যদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারা এখন নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
১৬ বছর নিবন্ধন শর্ত অনুসরণ করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটি ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ নির্বাচন করেছে।
“এখন আমাকে বহিষ্কার করলে তো নিবন্ধনও বাতিল করতে হবে। সেটা তো তারা করবে না, তারা নিবন্ধনও পাবে না। গেল বছর কল্যাণ পার্টির নির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে ১০-১২ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এখন তারা অবৈধভাবে নামটা অপব্যবহার করছে।”
নির্বাচন কমিশন কথিত কমিটির কিছু আমলে নেবে না বলে মনে করেন ইবরাহিম।
এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ব াচন কমিশন পর্যালোচনা ও শুনানি করে বিষয়টি নিস্পত্তি করে থাকে।
এর আগে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশটিও চিঠি নিজেদের মূলধারা দাবি করে ইসির স্বীকৃতি চেয়েছে।
২০০৭ সালে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের গড়া কল্যাণ পার্টি ২০০৮ সালে হাতঘড়ি প্রতীকে ইসির নিবন্ধন পায়।
দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে জোট বেধে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।
সে নির্বানের আগে ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর ইবরাহিমকে বহিষ্কার করে নতুন কমিটি গঠন করে কল্যাণ পার্টির একাংশ। নতুন কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন পারভেজকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আবু হানিফকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়।

ইবররাহিমকে বহিষ্কার ও নতুন কমিটির বিষয়ে গত বছরের ২২ নভেম্বর ইসিকে এক দফা জানানো হয়েছে।
কোন অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে চিঠি দিয়ে কল্যাণ পার্টির বর্তমান দাপ্তরিক ঠিকানা, চেয়ারম্যান হিসেবে মো. শামসুদ্দিন পারভেজ এবং মহাসচিব হিসেবে মুহাম্মদ আবু হানিফের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ইসি সচিবকে অনুরোধ করেছেন তারা।
ইবরাহিমের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও নতুন কমিটি গঠনের সকল তথ্য জমা দেওয়ার কথা তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির (নিবন্ধন নম্বর-০৩১) দাপ্তরিক ঠিকানা পরিবর্তিত হয়েছে।
আগে চেয়ারম্যানের কার্যালয় ছিল বাড়ী নম্বর-৩২৫, লেইন নম্বর-২২, নিউ ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা-১২১৬ এবং মহানগর কার্যালয় ৮৫ নয়াপল্টন (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১০০০।
২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভার বিষয়টি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদমর্যাদায় ভাইস চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই ঠিকানা পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন দাপ্তরিক ঠিকানা- ২৬৬/১, কমিশনার গলি, ফকিরেরপুল, থানা- মতিঝিল, জেলা- ঢাকা-১০০০।
“একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির গঠণতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২০(ঞ) এর ১-৫ মোতাবেক পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক-এর পরিবর্তে মো. শামসুদ্দিন পারভেজকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন-এর পরিবর্তে মুহাম্মদ আবু হানিফকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।”
চিঠিতে বলা হয়েছে, “পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে মো. শামসুদ্দিন পারভেজ এবং মহাসচিব হিসেবে মুহাম্মদ আবু হানিফকে কাউন্সিলরদের সম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়।”
পুরনো খবর: