Published : 10 Jun 2026, 08:15 PM
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রতারণা মামলায় বিএনপির এক নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণার খবর প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পাবনার আমলি আদালতে হাজির হয়ে বিএনপি নেতা জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক বেবী নাজনীন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম।
কারাগারে যাওয়া সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় ভিজিডি কার্ড, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সোহেলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে থানায় সোপর্দ করে প্রতারণার শিকার বিক্ষুব্ধ জনতা।
পরদিন শনিবার ৩৫ জন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় সোহেলের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা করেন।
অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেলের পরিবার। এ ঘটনায় সোমবার পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ‘কালের কণ্ঠের’ ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও ভাঙ্গুড়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির অভিযোগে একটি মামলার আবেদন করেন সোহেলের স্ত্রী শিখা খাতুন।
সাংবাদিক মাসুদ রানা উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে।
মামলার বিষয়ে সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, “সব তথ্য-উপাত্ত ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে খবর প্রকাশ করা হয়। ঘটনাটি দেশের প্রথম সারির প্রায় সব সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
“মূলত মূল ঘটনা থেকে নজর সরাতে এবং আমাকে হয়রানি করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানিতে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।”
খবর প্রকাশের জেরে সাংবাদিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
ভাঙ্গুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব উল আলম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ফারুকসহ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অবিলম্বে হয়রানিমূলক এই মামলা থেকে সাংবাদিক মাসুদ রানাকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।