Published : 12 Sep 2025, 07:18 PM
হাসপাতালের বিছানায় তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক; পরিচতজনদের কখনো চিনতে পারছেন, আবার কখনো পারছেন না। চিকিৎসক বলছেন, বয়সের কারণে এমন স্মৃতিভ্রষ্টতা থাকা অস্বাভাবিক নয়।
তবে অন্য যে রোগে তিনি আক্রান্ত, তা থেকে সহসা হয়ত পুরোপুরি সুস্থতা মিলবে না।
শুক্রবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই ৯৭তম জন্মদিন কাটছে আহমদ রফিকের। ঢাকার পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের এইচডিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন তিনি।
আহমদ রফিকের খবর জানতে হাসপাতালে গেলে দায়িত্বরতরা জানান, তিনি এখন ঘুমাচ্ছেন। স্মৃতিভ্রষ্টতার কারণে অনেক সময়ই তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকছেন।
তার ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগে এক সপ্তাহ ল্যাবএইডে চিকিৎসাধীন ছিলেন আহমদ রফিক। বৃহস্পতিবার তাকে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।
গত এক মাসে দুই দফায় ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আহমদ রফিক।
হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আহমদ রফিক আমাদের এখানে এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। দ্রুতই তাকে সাধারণ বেডে দেব বলে আশা করছি।
“উনার তো বয়স হয়েছে; ৯৬ বছর পার হয়ে ৯৭ বছরে পা দিলেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই উনার ডায়েবেটিস এবং হৃদরোগের সমস্যা আছে। ২০০০ সালে উনার হৃদযন্ত্রে একটি রিং লাগানো হয়। এছাড়া স্মৃতিভ্রষ্টতা, যাকে বলা হয় ‘ডিমেনশিয়া’। উনি এই রোগেও আক্রান্ত। উনার শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতার একটা ব্যাপারও তৈরি হয়েছে। এছাড়া শুয়ে থাকতে থাকতে উনার শরীরের নানা জায়গায় ঘা হয়েছে।”
আহমদ রফিকের স্বাস্থ্যের সবশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী বলেন, “এখন উনার ডায়েবেটিস এবং ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আছে। আর স্মৃতিভ্রষ্টতা, বয়সের কারণে এরকম কিছুটা থাকবে। তবে তিনি এই মুহূর্তে শঙ্কমুক্ত। যেহেতু তিনি স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভুগছেন; এজন্য অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। তাই সারাক্ষণ তন্দ্রচ্ছন্ন বা চোখ বন্ধ করে থাকেন।”
আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শাহবাজপুরে। মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর রসায়নে পড়তে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ফজলুল হক হলের আবাসিক সুবিধা না পাওয়ায় ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।
১৯৫২ সালে তৃতীয়বর্ষে পড়ার সময় ফজলুল হক হল, ঢাকা হল এবং মিটফোর্ডের ছাত্রদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলার কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সভা-সমাবেশ মিছিলে ছিলেন নিয়মিত।
১৯৫৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আন্দোলনকারী ছাত্রদের মাঝে একমাত্র তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
১৯৫৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে পড়াশোনায় ফেরেন আহমদ রফিক। এমবিবিএস ডিগ্রি নিলেও চিকিৎসকের পেশায় যাননি।
১৯৫৮ সালেই আহমেদ রফিকের প্রথম প্রবন্ধের বই ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশ হয়। তারপর লেখালেখিতেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য উপাধিসহ অনেক সম্মাননা।
আগের খবর
ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক আবার হাসপাতালে