Published : 07 Aug 2025, 06:13 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রীয় উদযাপনের মুহূর্তে কেন কক্সবাজারে ভ্রমণে ছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
দলের কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাবে বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে একান্তে চিন্তা-ভাবনা করতে’ কক্সবাজারে গিয়েছিলেন।
দুদিন আগে ঢাকায় যখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হচ্ছিল, তখন কক্সবাজারে যান এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতা। সেখানে দুপুরের দিকে একটি হোটেলে তারা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলে কক্সবাজারে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে কক্সবাজারের ইনানীর 'সীপার্ল রিসোর্ট এন্ড স্পা' হোটেলের (হোটেল রয়্যাল টিউলিপ নামে পরিচিত) সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভও প্রকাশ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ওই পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শাতে বলে দলটি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার নোটিসের জবাবে বলেছেন, “আমি ঘুরতে গিয়েছিলাম, তবে এই ঘোরার লক্ষ্য ছিল রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে একান্তে চিন্তাভাবনা করা। সাগরের পাড়ে বসে আমি গভীরভাবে ভাবতে চেয়েছি গণঅভ্যুত্থান, নাগরিক কমিটি, নাগরিক পার্টির কাঠামো, ভবিষ্যৎ গণপরিষদ এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে।
“আমি এটিকে কোনো অপরাধ মনে করি না, বরং একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য এটি একটি দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা।”
নাসীরুদ্দীন বলেন, “৫ অগাস্ট আমার কোনো পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বা সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল না। দল থেকেও আমাকে এ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব বা কর্মপরিকল্পনা জানানো হয়নি।”

কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে অবহিত করেছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, “৪ অগাস্ট রাতে দলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার কোচিং অফিসের সহকর্মীর ফোন ব্যবহার করে আমাকে জানায় যে, সে তার স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে দুই দিনের জন্য ঘুরতে যাবে। আমি তাকে আহ্বায়ক মহোদয়কে অবহিত করতে বলি এবং সে জানায় যে বিষয়টি জানাবে এবং আমাকেও জানাতে বলে যেহেতু তার নিজস্ব ফোন পদযাত্রায় চুরি হয়ে গিয়েছিল।
“৪ অগাস্ট রাতে পার্টি অফিসে আমি আহ্বায়ক মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানাই। একই রাতে আমি সদস্য সচিব মহোদয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি এবং জানতে পারি যে, রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে দল থেকে তিনজন প্রতিনিধি যাচ্ছেন এবং সেখানে আমার কোনো কাজ নাই।
“আমি কোনো দায়িত্বে না থাকায় এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সফরসঙ্গী হিসেবে সস্ত্রীক সারজিস আলম ও তাসনিম জারা-খালেদ সাইফুল্লাহ দম্পতি যুক্ত হন।”
কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর গুজব ছড়িয়ে পড়ে দাবি করে নাসীরুদ্দীন বলেন, “আমরা নাকি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আমি তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাই যে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে জানায় সেখানে পিটার হাস নামে কেউ নেই। পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি তখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছিলেন।”
বিষয়টিকে ‘ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “অতীতেও আমি এই হোটেলে থেকেছি এবং কখনও কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। অতীতেও আমি বেশ কয়েকবার ঘুরতে গিয়েছি, কিন্তু ঘুরতে আসলে দলের বিধিমালা লঙ্ঘন হয়, এমন কোনো বার্তা আমাকে কখনও দল থেকে দেয়া হয়নি।
“পরিস্থিতির আলোকে, আমি মনে করি শোকজ নোটিসটি বাস্তবভিত্তিক নয়। আমার সফর ছিল স্বচ্ছ, সাংগঠনিক নীতিমালাবিরোধী নয় এবং একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনার সুযোগ মাত্র।
“তবুও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে আমি এই লিখিত জবাব প্রদান করছি। অসভ্য জগতে সভ্যতার এক নিদর্শন হিসেবে। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, ঘুরতে যাওয়া অপরাধ নয়। কারণ ইতিহাস কেবল মিটিংয়ে নয়, অনেক সময় নির্জন চিন্তার ঘরে বা সাগরের পাড়েও জন্ম নেয়।”