তাজিয়া মিছিলে ‘রশি ধরা নিয়ে বিতণ্ডার’ জেরে জাকিরকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
হত্যায় জড়িত অন্যদেরও ইতোমধ্যে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকার কথা বলেছে পুলিশ।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে আশুরার তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া যুবককে ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে এ হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলছে, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির (প্রতীকী কাঠামো) রশি ধরাকে কেন্দ্র করে ‘বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির জেরে’ এ ঘটনা ঘটেছে।
গ্রেপ্তারদের একজন মো. রাশেদ (২০); বাকি তিনজন কিশোর, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
শনিবার বিকালে মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাত ১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর একাধিক অভিযানে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি, ঘটনার সময় তাদের পরনে থাকা জামা উদ্ধার করা হয়েছে।”
শুক্রবার বিকালে বাংলাবাজার পি কে রায় সড়কে একটি ভবনের নিচে ৩১ বছর বয়সী জাকির হোসেনকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাকির ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার পর সূত্রাপুর থানায় অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন জাকিরের ভাই শুভ।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপ পুলিশ কমিশনার তালেবুর বলেন, “ঘটনার সূত্রপাত মূলত তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ও হামলাকারীদের বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে সে পি কে রায় সড়কের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন।”
ঘটনার বিবরণে পুলিশ বলেছে, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে সূত্রাপুরের বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল চকবাজার-লালবাগ হয়ে ধানমন্ডির দিকে রওনা দেয়। মিছিলটি বাংলাবাজার অতিক্রমকালে বিকেল ৫টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।
হত্যায় জড়িত অন্যদেরও ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকার তথ্য দেন তিনি।
