Published : 19 Mar 2026, 12:28 PM
বগুড়ার সান্তাহারে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুতির জেরে ঢাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরের দুই ট্রেনের যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে এসে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ও দিনাজপুরগামী ‘একতা এক্সপ্রেসের’ নাগাল মিলছিল না।
বগুড়ার সান্তাহারে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ দুর্ঘটনার কারণে এ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে ভাষ্য রেলওয়ে কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, সকাল সোয়া ১০টার ‘একতা এক্সপ্রেস’ ছাড়তে বিকাল গড়াতে পারে, আর সকাল পৌনে ৭টার ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ছেড়েছে ৫ ঘণ্টা বিলম্বে।
কমলাপুর স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কারণে দুটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। তিনটি নতুন কোচ সংযুক্ত করে আজকের নীলসাগর ছেড়েছে বেলা ১২টায়।”

দিনাজপুরগামী ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বুধবার ঢাকায় আসতে না পারায় ট্রেনটি ছাড়তে বিকাল ৪টা বাজতে পারে বলে ধারণা দেন কমলাপুরের সাবেক এ স্টেশন ম্যানেজার।
আমিনুল হক বলেন, “বিকাল ৪টা ৫০-এ ছাড়বে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে ছাড়বে বলে আশা করছি।"
এ ছাড়া সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫টি ট্রেন সঠিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়েছে বলে জানান আমিনুল হক।
সকাল সাড়ে ৬টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর স্টেশনে এসে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’র জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েন গার্মেন্টকর্মী বীণা আক্তার।
তিনি বেলা পৌওন ১১টার দিকে বলেন, “সেই সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে ৬টায় কমলাপুরে এসেছি। কখন ট্রেন ছাড়বে জানি না। দুইটা মেয়ে বাড়িতে অপেক্ষায় আছে কখন যাব, এখন কয়টায় পৌঁছাতে পারবো কে জানে!"

‘নীলসাগর এক্সপ্রেসের’ আরেক যাত্রী রাইসুল ইসলাম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে দোহার থেকে ভোরে আসেন।
কমলাপুর স্টেশনের কর্মরত কাউকে দেখলেই ট্রেন ছাড়ার খবর জানতে চাইছিলেন তিনি।
রাইসুল পৌনে ১১টার দিকে বলেন, “শুনেছি ১১টার দিকে ছাড়বে, বাকিটা আল্লায় জানে। কী আর করব ভাই, বাচ্চাটাকে নিয়ে সমস্যায় আছি।"
ট্রেনে উঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুট-ঝামেলা এড়াতে গাজীপুর থেকে কন্যা সন্তানকে নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে আসেন পোশাককর্মী এক দম্পতি।
‘একতা এক্সপ্রেসে’ দিনাজপুরের যাওয়ার উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৬টায় স্টেশনে এসেছেন তারা। বসে থেকে ক্লান্ত ১৫ বছর বয়সি মেয়েকে কাঁধে ঘুমানোর সুযোগ করে দিয়েছেন বাবা সুলাইমান হোসেন।
পাশে বসে স্ত্রী আম্বিয়া বিবি বলেন, “বসে থাকতে থাকতে মেয়েটা ক্লান্ত হয়ে গেছে, কখন যে ট্রেন ছাড়বে? কতক্ষণ বসে থাকা যায়।”
নারায়ণগঞ্জ থেকে সকাল ১০টার দিকে কমলাপুরে এসেছেন ‘একতা এক্সপ্রেসের’ আরেক যাত্রী তামান্না আক্তার নূরী।
তিনি বলেন, “একটু আগে আসছি, কিন্তু ট্রেন কখন ছাড়বে সেটা তো জানি না। দেখি কী হয়।”

‘একতা এক্সপ্রেসের’ যাত্রী বর্ষা বলেন, “কখন যাবে ট্রেন, টাইমটাও কেউ বলে না, কী করব বুঝতেছি না। সন্ধ্যায় ছাড়লে গভীর রাতে বাড়ি যামু কীভাবে।
“সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে একতা এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা খাকলেও বিলম্ব হওয়ার কারণে অনেককেই দেখা যায় বাসা থেকে নিয়ে আসা বিছানার চাদর বিছিয়ে প্লাটফর্মে বাচ্চাদের ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছেন।"
ঈদযাত্রার শেষদিনে বৃহস্পতিবার দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৪৫টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ও মেইল ট্রেন ছাড়বে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হক।
তিনি বলেন, “সকাল থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫টি ট্রেনের সবগুলোই সঠিক সময়ে কমলাপুর ছেড়েছে। সকল যাত্রীর টিকিট আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। আজকে যাত্রীর চাপ একটু বেশি।”

এদিকে স্টেশনের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ঢোকার আগমুহূর্তে এবং প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগমুহূর্তে দুই স্তরে টিকেট যাচাই করা হচ্ছে। টিকিট দেখাতে পারলে কোনো ভোগান্তি নেই, তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি যাচ্ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’।
বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে থামে। সেখান থেকে ট্রেনটি তিলকপুর স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর বাগমারি এলাকায় তা লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালের পর লাইনটি সচল হয়েছে।