Published : 04 Jun 2026, 12:48 PM
দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ থেকে আগামীর বাংলাদেশের বড় ফুটবলাররা উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার সকালে টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, "আজকে যেই বিশাল অংকের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানটি করতে যাচ্ছি, আমার মনে হয় একটি বিশ্ব রেকর্ড। ৬৫ হাজারের ওপরে প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতায় এসছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের মেসি, আগামী দিনের পেলে; এই আশা আমাদের রয়েছে।"
রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু করতে চান বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তার ভাবনা আগামী বাংলাদেশ। উনার ভাবনা কি করে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন সেইজন্য তিনি শুরু করতে চাচ্ছেন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। যেভাবে শুরু করেছিলেন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া।
"তিনি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি দিয়ে তাদেরকে স্কুলে এনেছিলেন। পরবর্তীতে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা দেখেছি সেই পদক্ষেপের কারণে সারা বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে ভর্তির হার বেড়ে গিয়েছিল। আবার আমরা এটাও দেখেছি বিগত সরকারের সময় ড্রপআউট রেটও বেড়ে গিয়েছিল।"
মন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, ফলে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
"আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদেরকে আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা তিনি করছেন। এই শিশুদের জন্য তিনি ড্রেসের ব্যবস্থা করছেন।"
সরকার শিগগিরই সব প্রাথমিক বিদ্যালয় মিড-ডে মিল চালু ও শিশুদের পোশাক, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
আগামী দিনে শিক্ষাকে শিশুদের জন্য আরও আনন্দময় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, "আমরা দেখতে চাই না কাঁধভর্তি ব্যাগে বই নিয়ে আমাদের শিশুরা প্রতিষ্ঠান যাচ্ছে। আমরা দেখতে চাই তারা হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।"
আগামী ২০ জুন আর্মি স্টেডিয়ামে এ খেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
পরে এ স্কুল মাঠেই টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ে মেয়েদের ও ছেলেদের উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের খেলার মাধ্যমে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে।
বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয় গত ২৩ মে। চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ে দেশের ৮ টি বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ৮টি বালক ও ৮টি বালিকা দল অংশ নেবে।
২০১০ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ফূটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম বছর শুধু ছেলেদের খেলা আয়োজিত হলেও পরের বছর ২০১১ সাল থেকে ছেলে ও মেয়েদের টুর্নামেন্ট আয়োজিত হচ্ছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ছেলেদের টুর্নামেন্টের নামকরণ করেছিল 'বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও মেয়েদের টুর্নামেন্টের নামকরণ করেছিল 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট'।
মাঝখানে কোভিড মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে এই দুই টুর্নামেন্ট আয়োজিত না হলেও অন্যান্য বছরগুলোতে নিয়মিত এই খেলা আয়োজিত হয়েছে।
চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পতনের পর ওই বছরের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এ টুর্নামেন্ট থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা নাম বাদ দিয়ে দুটি টুর্নামেন্ট এক করে নতুন নামকরণ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)।