আদিল-এলানের সাজায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও অসন্তুষ্টি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Jan 2024, 10:29 AM
Updated : 28 Jan 2024, 10:29 AM

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের দুই বছর সাজার রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

বৃহস্পতিবার এই রায়ের পর ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, এই রায় মানবাধিকারকর্মী এবং সুশীল সমাজের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালনের সদিচ্ছাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে তারা মনে করছে।

১০ বছর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে আদিলুর ও এলানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে। দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই আইনটি বাতিল করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছিল সরকার। সমালোচনার মুখে সেই আইনও রদ করে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। একদিন আগে সংসদে পাস হওয়া আইনটি নিয়েও অসন্তুষ্টি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, অধিকার কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রাণবন্ত নাগরিক সমাজকে অব্যাহতভাবে সমর্থন করি এবং মৌলিক অধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করি। যুক্তরাষ্ট্র মানুষের অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রচার ও সুরক্ষায় মানবাধিকারকর্মী এবং সুশীল সমাজ সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। আমাদের ‘২০২২ কান্ট্রি রিপোর্ট অন হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে ‘অনলাইন এবং অফলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা’ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘বিশেষ সরকারী বিধিনিষেধের সাথে পরিচালিত’ হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।”

একদিন আগে সংসদে পাস হওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইনটিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার অংশীজনদের পর্যালোচনা এবং তাদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। আলাদা বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বলেছে, “দুর্ভাগ্যবশত, সাইবার নিরাপত্তা আইন অনেক দিক দিয়েই এর আগের  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো। এই আইনেও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, জামিন অযোগ্য ধারা বহাল রাখা হয়েছে এবং সমালোচকদের গ্রেপ্তার, আটক ও কণ্ঠরোধ করতে খুব সহজেই এর অপব্যবহার হতে পারে।” 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)