Published : 07 Jul 2025, 07:19 PM
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট ও নির্বাচনি ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম।
সোমবার বিকাল ৩টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে এনডিএমের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল দাবিদাওয়া তুলে ধরেছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। সিইসির কাছে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনি আচরণবিধি, প্রার্থীর অযোগ্যতা ও নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিসহ চারটি দাবি তুলে ধরার কথা জানান তিনি।
আচরণবিধিতে নির্বাচনি ব্যয় ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়ারও কথা বলেন এনডিএম চেয়ারম্যান।
নির্বাচনে পোস্টার থাকছে না; বিলবোর্ড ও ব্যানারের মত বিষয়গুলো যুক্ত হওয়াতে নির্বাচনি ব্যয় বাড়বে কিনা- এ প্রশ্নে ববি হাজ্জাজ বলেন, “বিলবোর্ড যদি প্রার্থীকে ভাড়া করতে হয় তাহলে ৪০ লাখ টাকা নির্বাচনে ব্যয় দিয়ে সম্ভব হবে না। এটাই বাস্তব।
“নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি যাতে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে প্রার্থীদের বিলবোর্ডের ব্যবস্থা করেন।”
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পদধারীরা যেন আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র বা অন্য দলের হয়ে অংশগ্রহণ করতে না পারে- এমন বিধান যুক্ত করারও দাবিও করেছে এনডিএম।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আরপিওতে প্রার্থীর অযোগ্যতায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের যেকোনোভাবে লুকিয়ে ভোটে অংশগ্রহণ না করার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব তুলে ধরার পরামর্শ দেন সিইসি।
এনডিএম চেয়ারম্যান বলেন, “অন্তরর্বর্তীকালীন সরকার যদি আইন পাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে, আইনের ‘লেটার অব দ্য ল’ মেইনটেইন হতে হবে। নিবন্ধন স্থগিত, যতক্ষণ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ না উঠানো হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না।”
এনডিএমের চার দাবি-
সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জেলার মোট আসন অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এক জেলায় অবস্থিত সংসদীয় আসন অন্য জেলায় স্থানান্তর করা যাবে না। যেখানে সম্ভব উপজেলাকে অবিভাজিত রাখতে হবে।
আসন পুনবিন্যাসের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, বিভিন্ন আসনের মধ্যে ভোটার সংখ্যার তারতম্য, ভৌগলিক সীমারেখা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা, জনপ্রত্যাশার মত বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে।
নির্বাচনি আচরণবিধি
নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় সংসদীয় আসনের নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর ছবি সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করতে হবে। প্রস্তাবিত পিভিসি ব্যানার ব্যবহার না করা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র হনন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কোনো প্রচারণা চালাতে পারবে না মর্মে আচরণবিধিতে যুক্ত করতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়সীমা ৪০ লাখ টাকায় উন্নীত করতে হবে।
প্রার্থীর অযোগ্যতা
১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণের জামিনদারদের ক্ষেত্রে ঋণের মূল আবেদনকারী খেলাপি হলে মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বে ঋণ পরিশোধ স্লিপ প্রদান সাপেক্ষে প্রার্থীকে নির্বাচনের যোগ্য বিবেচিত করতে হবে।
সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম বা নিবন্ধন স্থগিত থাকা রাজনৈতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয়/ জেলা/ উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সদস্যকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ধরে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় নির্বাচনের তফসিল এবং তারিখ ঘোষণা সংক্রান্ত আলোচনা হয়ে থাকলে তা দ্রুত জাতিকে জানাতে হবে।
সিইসি সঙ্গে আমজনগণ পার্টির সাক্ষাৎ
সোমবার বিকাল ৪টার পরে সিইসির সঙ্গে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির আহ্বায়ক মো. রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে। নিবন্ধন প্রত্যাশী এই দলটির প্রতীক আনারাস।
রফিকুল আমীন বলেন, “আমরা সিইসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। আশা করি আগামীতে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে।”