Published : 15 Sep 2025, 05:00 PM
দুদকের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক সাংসদ ও বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
সোমবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ।
দুদকের কৌঁসুলি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “মোরশেদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে আমরা জামিনের বিরোধিতা করি। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন।”
নোয়াখালী-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোরশেদ আলমকে গত ৮ এপ্রিল পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
গত ৪ মে দুদকের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে মোরশেদ আলমসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর মোরশেদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন- মোরশেদ আলমের ছেলে বেঙ্গল কনসেপ্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল আলম এবং মোরশেদ আলমের ভাই বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এরিয়া অফিসের জন্য ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম ও তার ভাই মো. জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন জমি কেনা হয়।
এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ঘটেছে দাবি করে দুদক বলছে, অস্বাভাবিক দামে জমি বিক্রির মাধ্যমে তারা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার শিবলী রুবাইয়াত
এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা আরেক মামলায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে একই আদালত।
দুদকের কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৮৭ কোটি টাকার জমি অতি মূল্যায়ন করে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত ১৬ এপ্রিল এ মামলা করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সিআইবি প্রতিবেদন সংগ্রহ না করে এবং মর্টগেজ সম্পত্তি সরেজমিনে পরিদর্শন বা মূল্য যাচাই না করেই অতি মূল্যায়নের মাধ্যমে সদ্য নিবন্ধিত একটি কোম্পানির (শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড) নামে বন্ডের মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এই অর্থ প্রথমে চলতি হিসাবে জমা হয়, এরপর ২০০ কোটি টাকার এফডিআর করা হয় এবং বাকি ৮০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয় বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে। সেখান থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করা হয়।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।