১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা: কার কী অপরাধ, কী সাজা

গুলি করে হত্যা, লাশ পোড়ানো, নির্দেশনা এবং উসকানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 11:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় সাতজনকে গুলি এবং ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার ১৬ আসামির মধ্যে বাকি সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই জনকে ৭ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের একজন, এসআই শেখ আবজালুল হক এ মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাকে ক্ষমা করেছে ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

এ ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই বিচারক হলেন- মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয়জন হলেন, ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (পলাতক), আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি (পলাতক), আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা (পলাতক), কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া (পলাতক)।

যাবজ্জীবন দণ্ডিত সাতজন হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম (পলাতক), সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন (পলাতক), ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (পলাতক), ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজু ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস (পলাতক)।

সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুজন হলেন আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান। তারা গ্রেপ্তার রয়েছেন। 

সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়ায় নিহত ছয়জন। উপরে বাঁ থেকে সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়; নিচে বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন ও ওমর ফারুক।

আশুলিয়ায় নিহত ছয়জন। উপরে বাঁ থেকে সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়; নিচে বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন ও ওমর ফারুক।

রায়ে গুলি করে হত্যা, লাশ পোড়ানো, নির্দেশনা এবং উসকানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে দুটি অভিযোগকে কয়েকটি কাউন্টে (অপরাধমূলক ঘটনা) ভাগ করা হয়। এসব কাউন্টে আসামিদের সাজার পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।

সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাকে প্রথম অভিযোগের সাতটি কাউন্টে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয় অভিযোগের ১-৩ নম্বর কাউন্টে এবং ৩-৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় অনুকূলে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ রনিকে প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগের সব কাউন্টে মৃত্যুদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে; সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। 

মালেক, বিশ্বজিৎ ও মুকুল চোকদারকে প্রথম অভিযোগের সব কাউন্টে যাবজ্জীবন এবং দ্বিতীয় অভিযোগের ১-৩ নম্বর কাউন্টে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ডও হয়েছে।

যুবলীগ নেতা ১৬ নম্বর আসামি রনি ভূঁইয়াকে প্রথম অভিযোগের সব কাউন্টে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দ নুরুল ইসলামকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগের সব কাউন্টে এবং ৩-৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আসাদুজ্জামান রিপন, আব্দুল্লাহ হিল কাফী, শাহিদুল ইসলাম, মো. মাসুদুর রহমান, নির্মল কুমার দাস ও আরাফাত হোসেনকে ১ নম্বর অভিযোগের সব কাউন্টে, ২ নম্বর অভিযোগের ১ থেকে ৩ নম্বর কাউন্টে এবং ৩ থেকে ৫ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসাদুজ্জামান রিপন, আব্দুল্লাহ হিল কাফী ও শাহিদুল ইসলাম – প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং বাকিদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আরাফাত উদ্দিন ও কামরুল হাসানকে দ্বিতীয় অভিযোগের ১ নম্বর কাউন্টে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।