১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘শত কোটি টাকা চাঁদাবাজি’: আজিজ আহমেদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন জুয়ার কারবারের অভিযোগে ২০২৩ সালে কারাদণ্ড পাওয়া সেলিম প্রধান এই মামলার বাদী।

‘শত কোটি টাকা চাঁদাবাজি’: আজিজ আহমেদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Sep 2024, 08:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:30 AM

শত কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, তার ভাই হারিস আহমেদ ও জোসেফ আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আবেদন জমার পর তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপার্সের চেয়ারম্যান সেলিম প্রধান হয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার আবেদনটি জমা দেন।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে তদন্তের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আলী হায়দার।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও র‌্যাব-৩ এর সাবেক অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল।

মামলার আবেদনে সেলিম প্রধান বলেন, ২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শাফী উল্লাহ বুলবুল তার ‘বসদের’ নির্দেশে গুলশানের বাড়িতে গিয়ে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি চাঁদা হিসেবে দাবি করেন। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় তারা সেলিম প্রধানের বাসায় গিয়ে ১০০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেলিম প্রধান থাইল্যান্ডে যাচ্ছিলেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়।

পরে র‌্যাব-১ অফিসে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ এনেছেন তিনি।

ভোট করা হচ্ছে না সেলিম প্রধানেরআদালতের সময় নষ্ট করায় অর্থদণ্ড

ক্যাসিনোকাণ্ডের সেই সেলিম প্রধান উপজেলার ভোটে লড়তে চান

সেলিম প্রধানের দাবি, রেঞ্জ রোভার গাড়ি এবং ১০০ কোটি টাকা চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। সেই সময় তার কাছে থাকা ১০ কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

আজিজ আহমেদদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী সেলিম প্রধান।

আজিজ আহমেদদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী সেলিম প্রধান।

ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করে র‍্যাব।

এরপর তার গুলশান, বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে ২৯ লাখ টাকা, বিপুল বিদেশি মদ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

৫৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ২২ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ছিল সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার সেটি আদালতে জমা দেন। একই বছরের ৩১ অক্টোবর এই মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।

সেলিম প্রধান ‘প্রধান গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের অধীনে ‘পি টোয়েন্টিফোর গেইমিং’ নামের একটি কোম্পানি আছে, যারা ওয়েবসাইটে ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনো ও অনলাইন ক্যাসিনোর কারবার চালিয়ে আসছিল।

২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের মামলায় সেলিম প্রধানকে দুই ধারায় চার বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:

জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন দণ্ডিত সেলিম প্রধানের

অনলাইন জুয়ার কারবারি সেলিম প্রধানের প্রার্থিতা স্থগিত