আচরণবিধিতে কঠোর হবে ইসি, এক সংসদ সদস্যকে সতর্কতা

ভোটের মাঠে ২৮ নভেম্বর থেকে নিবিড় তদারকিতে নামবে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম; মনোনয়নপত্র জমা শেষে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কড়াকড়ি হওয়ার আশ্বাস ইসির।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 03:30 PM
Updated : 22 Nov 2023, 03:30 PM

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘণের অভিযোগ পাওয়ায় রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে সতর্ক করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বুধবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর জানিয়েছেন, এজন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণার পর গত ১৭ নভেম্বর আইহাই স্কুলের মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ব্যানারে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের বিষয়ে জানার পর তা ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের সামিল’ উল্লেখ করে এজন্য সংসদ সদস্য বা উদ্যোগগ্রহণকারীকে সতর্ক করে দিতে চিঠিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও সাড়া দেননি রাজশাহী ১ এর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”

নির্বাচনী আচরণবিধির প্রসঙ্গে এদিন নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের কমিশনার আলমগীর বলেন, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম মাঠে নামার পর ২৮ নভেম্বর থেকে কঠোরভাবে তদারকি করা হবে এবং প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

৭ জানুয়ারির এ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার শেষ সময় রয়েছে।

অন্য কোনো জায়গায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না সেগুলোও রিটার্নিং কর্মকর্তারা দেখবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আলমগীর।

তিনি বলেন, ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার রয়েছেন, নজরে এলে এটা তাদের দায়িত্ব। এছাড়া ২৮ নভেম্বর থেকে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে তারা আচরণবিধি প্রতিপালন দেখবেন, তারা ব্যবস্থা নেবে।

“যখন প্রার্থী হবে, আচরণবিধি প্রতিপালনে পুরোপুরি মাঠে থাকবে হাকিমরা। প্রতিটি এলাকায় কঠোরভাবে দেখভাল করা হবে।”

দ্বাদশ সংসদের এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়ার কাজ শেষ করেছে। জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলো এ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক দফা দাবিকে সামনে রেখে এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

তফসিলের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা হরতালের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি শো-ডাউন, মিছিল হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড় দেখা গেছে অনেক এলাকায়।

তবে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এখনও এ ধরনের চিত্র দেখা যায়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সেখানে সর্বোচ্চ ৫ জনকে নিয়ে যেতে পারবেন।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ধরনের ভিড়ের প্রসঙ্গে উঠলে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়টি তুলে মনোনয়নকে ঘিরে উৎসব করলেও মোটর শোভাযাত্রা, শোডাউনে নিষেজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দলীয় অফিসের সামনে তো একটা রাস্তা আছে, সেখানে তো পারবে। তবে গাড়ি নিয়ে, মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল করতে পারবে না, শোডাউন করতে পারবে না। সেটা এখনও পারবে না, মনোনয়নপত্র দাখিলের পরেও করতে পারবে না। ফরম কেনার সময় অফিসের মধ্যে আনন্দ উল্লাস করতে পারবে।”

ইসি আলমগীর বলেন, তারা ভোট চাইতে পারেন। তবে নির্দিষ্টভাবে ভোট চাইতে পারবেন না। দলের জন্য ভোট চাইতে পারেন। কেননা, প্রার্থী তো এখনও হয় নাই। আচরণবিধিতে প্রচার বলতে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে একটা প্রতীকে ভোট চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে ব্যবস্থা

ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন এই নির্বাচন কমিশনার। ঢালাও এর বদলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি বলেন, “১৯৭০ সাল থেকে এ ধরনের অভিযোগ শুনছি। তখনও এই অভিযোগ করত। অযৌক্তিক কারণে কাউকে বদলি নয়। যদি যৌক্তিকতা থাকে যে এই অফিসার নিরপেক্ষ নয়, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

“একটা লজিক (যুক্তি) থাকতে হবে। তার বিরুদ্ধে স্পেসেফিক অভিযোগ থাকতে হবে। যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তিনি নিরপেক্ষ নন, কারও পক্ষে কাজ করছেন তখন দেখব।”

তফসিল ঘোষণার আগেও একজন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় তা তদন্ত করে প্রত্যাহারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন মো. আলমগীর।

Also Read: এবার সব আসনেই ইসির ‘অনুসন্ধান কমিটি’

Also Read: নির্বাচনী আচরণবিধি মানাতে মাঠে নামছে দেড় সহস্রাধিক নির্বাহী হাকিম