Published : 08 Jun 2026, 07:38 PM
দেশে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয় বলে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির ২০২৪ সালের এক সূচকের তথ্য সংসদে তুলে ধরেছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল বারী।
সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই হিসাব সামগ্রিক।
তিনি বলেন, “খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেগুলো বিতরণ করা হয়।
“এ ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হলেও নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্যগুদাম নির্মাণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে অপচয় কমানো হচ্ছে।”
সংসদে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয় ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবস্থাপনার শূন্য দশমিক ২৮৭ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন।
“এই তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ঘাটতি পূর্ববর্তী অর্থবছর থেকে হ্রাস পেয়েছে।”
খাদ্য অপচয় রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও তথ্য দেন মোহাম্মদ আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১৪ হাজার ২০৩টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয়েছে। একই সময়ে ২ হাজার ৬৭৪ জন খাদ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২২৯টি উঠান বৈঠক ও ২৫১টি স্কুল সেমিনার হয়েছে।
জামায়াতের এমপি মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে বর্তমানে চাল ও আটার বাজার ‘স্থিতিশীল রয়েছে’ বলে দাবি করেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।
জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ লাখ মেট্রিক টন গম এবং ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।”