Published : 04 Jan 2026, 11:56 PM
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে দেখছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।
তার বিশ্বাস, এ ধরনের কাজ অন্য কোনো দেশ করলে তাদের উপরে এতক্ষণে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলে সবাই ‘চুপচাপ’ বসে আছে।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সাবেক এ চেয়ারম্যান মনে করেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানানো।
রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘ইনসাইড আউটে’ অতিথি হয়ে এসেছিলেন ফয়েজ আহমদ, যেখানে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার বিষয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনেজুয়েলার উপর আক্রমণ করে প্রেসিডেন্টকে আটক করে নিয়ে গেল, এর বৈধতা কতটুকু?
মুন্সী ফয়েজ আহমেদ: সম্পূর্ণ অবৈধ; একটা অনৈতিক কাজ। কিন্তু আমেরিকার জন্য তো কোনো কিছুই ঠেকে থাকে না। আমেরিকা ইচ্ছা করলে যা খুশি তাই করতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্প সাহেবের তো সুনাম আছেই এসব ব্যাপারে। উনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। উনি কোনো নীতির ধার ধারেন না। উনি যে এর চেয়ে বেশি কিছু করেন নাই, বড় বড় যুদ্ধ লাগান নাই, এইটা একটা ব্যাপার। কারণ উনি নিজেকে বলেন যে আমি যুদ্ধবিরোধী ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই যে কাজটি করলেন, এটা যুদ্ধ না, এটা হচ্ছে, কী বলা যায়, এটাকে আমরা টেররিজম বলি, বাংলায় কী বলি আমরা, সন্ত্রাসবাদ। এটা একটা পুরোপুরি সন্ত্রাস এবং সব রকমের আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের পুরোপুরি লঙ্ঘন। এটা এটা যদি যুক্তরাষ্ট্র না হয় অন্য কেউ করত, তাহলে তাদের উপরে এতদিনে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলে সবাই চুপচাপ বসে আছে; খুব বেশি দেশ এখন পর্যন্ত এটার নিন্দা জানায় নাই। দুয়েকটা দেশ একটু একটু বলেছে, কিন্তু খুব বেশি দেশ এখনো বলে নাই। আমাদের দেশই তো চুপ করে বসে আছে, কিছু তো বলছে না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: এ বিষয়ে বাংলাদেশের কী অবস্থান হওয়া উচিত; বাংলাদেশের কি নিন্দা জানানো উচিত?
মুন্সী ফয়েজ আহমেদ: একদম। আমি যদি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেউ হতাম, তাহলে বলতাম যে অবশ্যই কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানানো উচিত। কারণ এটা হওয়া উচিত না। আর আজ আমি যদি এটার নিন্দা না জানাই, কাল আমার উপরেই একই ঘটনা ঘটাতে পারে। সেখানে অবশ্য একটা কথা আছে, অনেকে মনে করেন যে, বর্তমানে আমাদের যে অন্তর্বর্তী সরকার আছে, তাদের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ আছে। হয়ত সেই কারণে তারা কিছু বলছেন না। যাই হোক, আমি ওটা জানি না, ওইসব খবর, কিন্তু মোদ্দা কথা হলো যে, সরকার কিছুই যদি না বলে এক ব্যাপার, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন যেন না জানায়। আর আমার চাওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কঠোরতম ভাষায় এটার নিন্দা করুক। কেন বললাম, কিছুই যদি না বলে, তবুও চলে। কারণ হলো যে, আমরা ধরেই নিচ্ছি, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে রাগাতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট হয়ে তারা এখানে এসছে বা এখনো আছে। তো সে কারণে হয়তো তারা যুক্তরাষ্ট্রকে রুষ্ট করতে চাইবে না। সেজন্য কিছু হয়ত নাও বলতে পারে। সেই পর্যন্ত আমরা সহ্য করে নিব। কিন্তু তার চেয়ে বেশি যদি কিছু করে, তাহলে মনে করব যে, তারা তাদের সীমা ছাড়িয়ে গেল।
আরও পড়ুন
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্টকে আটক কতটা বৈধ?
'যথাযথ পরিবর্তন' না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র:
ছবি শেয়ার করে ট্রাম্প জানালেন, 'মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের ইও জিমা জাহাজে'
মাদুরোকে লক্ষ্যবস্তু করার যে কারণ দেখিয়েছেন ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ, জরুরি অবস্থা