ইসির সংলাপে জাতীয় পার্টি ডাক পাবে?
“যদি না ডাকে তাহলে তো আবার জিএম কাদের প্রশ্ন করবেন। অন্য অংশও প্রশ্ন করতে পারে। এজন্য সবার আগে সমাধান দরকার, কোনটা মূল দল।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, প্রথম দিন ১২টি দল নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন।
তার আগেই জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সংলাপে না ডাকার দাবি তুলেছে গণঅধিকার পরিষদ।
এ অবস্থায় নিবন্ধিত দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন-ইসির সংলাপে জাতীয় পার্টিকে রাখা হবে কি না, সে প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।
এ বিষয়ে ইসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে সাংবিধানিক সংস্থাটি বিভক্ত জাতীয় পার্টিকে ফয়সালার পথ দেখাচ্ছে।
জাতীয় পার্টির নিবন্ধন ও প্রতীকের মীমাংসা কীভাবে হবে, জানতে চাইলে নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, এটা নির্বাচন কমিশন সবার আগে মীমাংসা করা উচিত। মানে, সংলাপে ডাকার আগে, এইটাই ঠিক করা দরকার যে কোন জাতীয় পার্টিকে আসল হিসেবে তারা স্বীকৃতি দিবে।”
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে বিএনপি, জামায়াতসহ ৫৩টি। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে; প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি), ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে।
নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীর নিবন্ধন চূড়ান্ত করতে বিজ্ঞপ্তি হয়েছে, আপত্তি না থাকলে ১২ নভেম্বরের পর সনদ পাবে তারা।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটি নিষিদ্ধ হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি করছে গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতসহ কয়েকটি দল।
জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে নিবন্ধিত রয়েছে। ইসিও বলছে, নিবন্ধন বাতিল করা সরকারের বিষয়; এ নিয়ে তাদের করার কিছু নেই।
অন্তবর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ‘সংলাপেও’ আমন্ত্রণ পায়নি আওয়ামী লীগের টানা তিন দেড় দশকের শাসন আমলে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টি।
ইতোমধ্যে দলটি ভেঙে আরেক অংশ সক্রিয় রয়েছে। এখন দলটির জিএম কাদের, বেগম রওশন এরশাদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ-এই তিনটি ব্র্যাকেটে বন্দি, যারা প্রত্যেকে নিজেদের মূল দল দাবি করছেন।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে ইসির।
গেল সেপ্টেম্বরে শুরু করে শিক্ষাবিদ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, বিশিষ্টজন, নারী নেত্রীসহ নানা অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ইসি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ শেষ হয়েছে অক্টোবরে। এরইমধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি হওয়ায় আচরণবিধিও চূড়ান্ত। সব কিছু মিলিয়ে দলগুলোর সঙ্গে বসতে বিলম্ব হয়।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার থেকে ধাপে ধাপে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে বসার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।
কখন ও কাদের সংলাপে ডাকা হচ্ছে?
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনে সকাল ও বিকালের পর্বে ছয়টি করে দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে ধাপে ধাপে চলতি মাসে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংলাপে সংশ্লিষ্ট দলের সর্বোচ্চ তিনজন করে প্রতিনিধিকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে ১২টায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সংলাপে বসবে।
আর দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম এর সঙ্গে বসবে ইসি।
জাপাকে সংলাপে চায় না গণঅধিকার পরিষদ
গত বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে গণভবনে বৈঠকে জাতীয় পার্টি থাকলেও পরবর্তী সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সংলাপ ও বৈঠকে দলটিকে ডাকা হয়নি।
জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল। ঢাকায় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে গণঅধিকার পরিষদ সংলাপে এই দলগুলোতে না ডাকার আবেদন জানিয়েছে।
পাশাপাশি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যেন নির্বাচন করতে না পারে, এমন পদক্ষেপ নিতে বলেছে তারা।
বৈঠকের পরে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগের কেউ স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের সুযোগ পেলে তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে।”
এছাড়া নিবন্ধনের দোহাই দিয়ে এই দলগুলোকে ইসির সংলাপে ডাকলে আন্দোলন করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সংলাপে কোন জাপাকে ডাকবে ইসি?
জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ঘিরে অগাস্টে দলে আরেক দফা ভাঙন হয়; আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার নেতৃত্বাধীন অংশ নির্বাচন কমিশনে মূল জাপা দাবি করে চিঠিও দেয়। তারা বলছে, লাঙ্গল প্রতীকের দাবিদার এ অংশই।
সে মাসেই জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তারা সংলাপে ডাক পাওয়ার আশা রাখেন।
আনিসুল হক মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশ মনে করে, বৈধ কমিটি না হওয়ায় জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের দাবিদার হওয়ার সুযোগ নেই।
নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সংলাপে জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকার ক্ষেত্রে সংশয় রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দলটির কটি অংশ তা নিয়ে তিনি ‘বিভ্রান্ত’।
গেল ২৫ সেপ্টেম্বর এক ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেছিলেন, “জাতীয় পার্টি পাঁচটি পেয়েছি, আপনারা কয়টি পেয়েছেন? লাঙ্গলের দাবিদার তো একাধিক। জাপা বললে আমি কনফিউজড, হাফ ডজন আছে। এজন্য কনফিউজড। সময় এলে দেখবেন, ভাবতে দেন।”
এমন পরিস্থিতিতে এবার ইসির সংলাপে জাপার ডাক পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে, যদিও সাংবিধানিক সংস্থাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছেনি।
লাঙ্গলের ফয়সালা কীভাবে?
দুই বছরের কম সময়ের ব্যবধানে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন এই দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া রওশনপন্থি ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের অংশটিও এখন লাঙ্গল প্রতীক দাবি করছে।
সবশেষ গেল অগাস্টে আলাদা হয়ে যাওয়া আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশটি বলছে, ‘গঠনতন্ত্র’ অনুযায়ী লাঙ্গল প্রতীক কেবলমাত্র তাদের।
সিইসির বক্তব্যের দুদিন পর ২৭ সেপ্টম্বর জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এই দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিনী রওশন এরশাদ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাদা হওয়ার পর নীরব থাকলেও এখন তার অংশটি বলছে, তারাই লাঙলের ‘একমাত্র দাবিদার’।
সিইসির বক্তব্যের পরপরই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তারা এই দাবি জানায়।
তবে এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের অংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলছেন, তারা ছাড়া অন্য কাউকে লাঙ্গল প্রতীক দেওয়ার ‘সুযোগ’ নেই।
ইসির কাছে কয়েকটি অংশের আবেদনও এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি করেনি সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।
জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি নির্বাচন কমিশন।
গত সপ্তাহে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “জাতীয় পার্টির বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা; তারা ফায়সাল করে আসবে, তখন পার্টি ও প্রতীক। আমরা অপেক্ষা করব, তারা কীভাবে ফায়সালা করে তাদের নিজেদের বিষয়।”
তিন খণ্ডের জাতীয় পার্টি নিজেদের মধ্যে যে ফয়সালার কথা ইসি বলছে, তা কীভাবে হবে, জানতে চাইলে নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, “আদালতের কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। কাজেই সবকিছু তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্য কারো কিছু বলার আছে আমার কিছু মনে হয় না এবং যদি অন্য কিছু হয় তাহলে আদালতে যেতে হবে। কিন্তু এটা কোনো অবস্থা ঝুলিয়ে রাখা ঠিক না। নির্বাচন সামনে, এই কারণে এটার একটা সমাধান করা তাদের দরকার।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে আমন্ত্রণ না পেলেও ইসির সংলাপের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথা বলেছেন মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের ইসি সংলাপে ডাকা না ডাকার নিয়ে কোনো সংশয় আছে বলে মনে করি না। ঐকমত্য কমিশন সাংবিধানিক কোনো সংস্থা নয়, তাদের বিষয়টি এখানে আলোচ্য নয়, তারা নিবন্ধিত ৩০টি দলকেও ডাকেনি।
“আমরা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত, জাতীয় পার্টিকে ডাকা ইসির অবশ্যই উচিত। আমাদের সংলাপে না ডাকলে শপথ ভঙ্গ করা হবে।”
ইসির সংলাপের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ, কর্মীদের নিরাপত্তা ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ বিবেচনা করে ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলেছেন তিনি।
শামীম হায়দার বলেন, “চারটি বড় দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো বড় দুটো বাদ দিয়ে ভোট করার পাঁয়তারা করা হলে হোঁচট খাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যত সরকারও টেকসই হবে না।”
জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইসিতে আবেদন করলেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করে হালনাগাদ কোনো তথ্য তাদের এখনও জানানো হয়নি। সংলাপে জাতীয় পার্টির কাকে ডাকা হচ্ছে, তাও অবগত নন তিনি।
“আমরা আবেদন করেছি। কিন্তু আমাদের সাথে এখনও যোগাযোগ হয়নি। তবে নিবন্ধিত সব দলকেই তো ডাকা উচিত,” বলেন দলটির এ অংশের চেয়ারম্যান।
জাতীয় পার্টিকে না ডাকলে সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে ইসির শপথ ভঙ্গ হবে কি না, জানতে চাইলে আব্দুল আলীম বলেন, “ডাক না পেলে সংবিধানিক সংস্থার শপথ ভঙ্গের মত অভিযোগ আনা হলেও ‘তা হয়তো হবে না’।”
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এই সদস্য বলেন, “কিন্তু এটা গণতন্ত্রের জন্য, একটা সমাধান দরকার। জাতীয় পার্টি নামে তো এখন পর্যন্ত একটা নিবন্ধন আছে, এটা তো বাতিল হয়নি।
“যদি না ডাকে তাহলে তো আবার জিএম কাদের প্রশ্ন করবেন। অন্য অংশও প্রশ্ন করতে পারে। এজন্য সবার আগে সমাধান দরকার, কোনটা মূল দল।”
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যতক্ষণ না নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাহলে ইসির নথিপত্রে যে জাতীয় পার্টি বিদ্যমান সেটাকেই (মূল দল) ধরবে। হয় তারা সিদ্ধান্ত নিবে এর পরিপ্রেক্ষিতে; না হয় কাগজপত্রে যা বলে সে অনুযায়ী নেবে। এটার কারণে তো ঝুলে থাকতে পারে না। সংলাপে ডাকবে কি, ডাকবে না সেটা ইসির একেবারেই নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”
সংলাপে কাদেরকে ডাকবে, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কীভাবে নিশ্চিত করবে-এসব একেবারেই ইসির নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“ইসিকে নিজের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে। ইসির নিরপেক্ষতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, স্বচ্ছতা যাতে থাকে। এটা ইসিকে বজায় রাখতে হব।”
আগের খবর:
