১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কাউন্সিলে নির্বাচিত ‘বৈধ’ নেতৃত্ব লাঙ্গল প্রতীকের মালিক: আনিসুল

নতুন কমিটি গঠনের পর জি এম কাদের আর কোনোভাবেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পরিচয় দিতে পারেন না, মনে করেন তিনি।

কাউন্সিলে নির্বাচিত ‘বৈধ’ নেতৃত্ব লাঙ্গল প্রতীকের মালিক: আনিসুল
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Sep 2025, 04:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

কাউন্সিলে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির ‘বৈধ’ নেতৃত্ব লাঙ্গল প্রতীকের মালিক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

শনিবার সকালে ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র এবং আরপিও অনুযায়ী গত ৯ আগস্ট জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় কাউন্সিল যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

“কাউন্সিলে আমি সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলের পর আমরা কমিটি নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। একই সঙ্গে কাউন্সিলের সকল ডকুমেন্টও জমা দিয়েছি।”

আনিসুল ইসলাম মনে করেন, নতুন কমিটি গঠনের পর জি এম কাদের আর কোনোভাবেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পরিচয় দিতে পারেন না। 

“তাছাড়া লাঙ্গল প্রতীক কোন ব্যক্তির নয়। লাঙ্গল প্রতীক নির্বাচনের কমিশনের নিবন্ধিত ১২ নম্বর জাতীয় পার্টির প্রতীক। তাই আইন ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের নেতৃত্বই জাতীয় পার্টির একমাত্র বৈধ নেতৃত্ব এবং লাঙ্গল প্রতীকের একমাত্র দাবিদার।”

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, “জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের দাবিদার একাধিক, মালিক কে তা খুঁজে পাচ্ছি না।"

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একাংশ লাঙ্গল প্রতীকের নিজেদের প্রাপ্ত বলে দাবি করে।

এর পরে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এল দলের এই অংশটি। 

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে কিছু পক্ষ নির্বাচন কমিশনে ভিন্ন ভিন্ন আবেদন জমা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।  

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম বলেন, “নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির আবেদনে নয়, কেবলমাত্র দলীয় গঠনতান্ত্রিক নেতৃত্বের বৈধ আবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ দিতে পারে। অতীতেও নির্বাচন কমিশন একই নীতি অনুসরণ করেছে এবং এবারও আইন, সংবিধান ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”

লাঙ্গল প্রতীক জাতীয় পার্টির ঐতিহ্য, ‘জনগণের আস্থা’ এবং ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতীক’ দাবি করে তিনি বলেন, “এ প্রতীক কেবল বৈধ নেতৃত্বকেই প্রদান করা উচিত। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী আবেদনগুলো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তিনি লাঙ্গলের মালিক খুঁজে পাচ্ছেন না। বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই গঠনতন্ত্র ও আইন মেনে চলতি বছরের ৯ আগস্ট জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আরপিও এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গলের বৈধ দাবিদার একমাত্র আমরাই।

“জাতীয় পার্টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও আইন মেনে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং বৈধ নেতৃত্বকে লাঙ্গল প্রতীকের স্বীকৃতি প্রদান করবে। জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এটিই হবে একমাত্র ন্যায়সংগত পদক্ষেপ।”

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির একাংশের সিনিয়ার কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আকতার, মাসরুর মওলা, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, আরিফুর রহমান খান, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, সরদার শাহজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মোঃ বেলাল হোসেন।