Published : 28 Jan 2026, 07:23 PM
প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হেফজুল বারি মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচবিএম ইকবালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১টি মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলা অনুমোদনের তথ্য দিয়েছেন।
আসামিরা তালিকায় অন্যরা হলেন, ইকবালের ছেলে ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল, ব্যাংকের সাধারণ সেবা বিভাগ ও ক্রয় কমিটির প্রধান এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নওশের আলী, পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী, বজলুল হক হারুন ওরফে বিএইচ হারুন, শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ ওরফে জামাল জি আহমেদ, মিসেস শায়লা শেলী খান, নব গোপাল বনিক, শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান হারুন, স্বতন্ত্র পরিচালক কাইজার আহমেদ চৌধুরী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) সৈয়দ আবুল হাশেম, ইভিপি ও বিভাগীয় প্রধান (পাবলিক রিলেশন ডিভিশন) মোহাম্মদ তারেক উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম রিয়াজুল করিম এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আল মাহমুদ।
দুদক বলছে, ২০২১-২২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে ১১টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যার মোট মূল্য ছিল ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণভাবে প্রচার করা হয়নি। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে ১০০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় ৫০ মিনিট করে।
রেকর্ডপত্র, ট্রান্সমিশন সার্টিফিকেট, ভাউচার ও পে-অর্ডার পর্যালোচনা করে দুদক দেখতে পায়, ওই ১১ কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বাকি ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের বরাতে আরও দুদক বলছে, ২০১১ সালের ৪ অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইকবালের নির্দেশে মাইন্ডট্রি বা মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে বিজ্ঞাপন ব্যয়ের অজুহাতে প্রায় ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কার্যাদেশ দেখিয়ে প্রায় ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা সমন্বয় দেখানো হলেও প্রায় ৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এখনো অসমন্বিত রয়েছে। এই অসমন্বিত অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের আলামত বহন করে।