Published : 22 Oct 2025, 06:17 PM
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এ মামলার জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আশরাফুল আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সহপাঠীকে ‘যৌন হয়রানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাইবার বুলিংয়ের’ অভিযোগ তুলে তার শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিক্ষোভে নামে বুয়েটের একদল শিক্ষার্থী। বিক্ষোভের মুখে রাতেই তাকে হেফাজতে নেয় চকবাজার থানা পুলিশ।
পরের বুধবার চকবাজার থানায় বুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার আফগান হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই শাজাহান সিরাজ।
শ্রীশান্তের পক্ষে তার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। অজ্ঞাত আইডির ভিত্তিতে শ্রীশান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে; এসব অভিযোগ ধারণার ভিত্তিতে। তার জামিন চাইছি।"
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন,"এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। দেখতে হবে ঘটনাটি কী; আসামি জামিন পেলে পরিস্থিতি কী হবে। মাত্র কয়েক দিন আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী কোরআন শরীফ অবমাননা করেছেন।"
শ্রীশান্তকে ইসকনের সদস্য দাবি করে এ আইনজীবী বলেন, “হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ লাগাতে চাচ্ছে। এ আসামি প্রথমে বোরখা পরা নারীদের নিয়ে, পরে মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েদের নিয়ে, এরপর আজান নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছে। এভাবে সে ইসলাম ধর্ম, অনুষ্ঠান নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
“গতকাল সারারাত এটা নিয়ে বুয়েটে বিক্ষোভ হয়েছে। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করছি। তার পেছনে আর কেউ আছেন কিনা, পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
তখন বিবাদীর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন,"মামলার ফ্যাক্টের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কে মুসলিম, কে হিন্দু, বিবেচ্য বিষয় নয়।"
উভয়পক্ষের কথা শোনার পর বিচারক বলেন,"মামলা দেখা যাচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের। কিন্তু যেসব ধারা দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে যাচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার শুনানি হবে।"
পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলায় বলা হয়, বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলে অবস্থান করে ছদ্ম নাম 'উইকলি সার্ভিস ৯২৩' (ইংরেজিতে) আইডি ব্যবহার করে শ্রীশান্ত মুসলমান নারী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে গত ৮ জুন থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন লেখালিখে করেন। তিনি অনেক ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ’ বক্তব্য পোস্ট করেন।
বাদীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন চেষ্টা করে ছদ্মনাম ব্যবহার করা আইডির প্রকৃত পরিচয়ধারী ব্যক্তি আসামি শ্রীশান্ত রায়কে শনাক্ত করা হয়।