Published : 27 Aug 2025, 11:27 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাবিত সংসদীয় এলাকার সীমানা নিয়ে দাবি-আপত্তির শেষ দিনের শুনানি চলছে।
চার দিন ধরে ৮৩টি আসন নিয়ে আবেদনের শুনানি বুধবার শেষ করতে যাচ্ছে এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলের দাবি আপত্তির শুনানিতে সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এসময় উপস্থিত রয়েছেন।
দাবি-আপত্তির পক্ষে আবেদনকারী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন।
এবার ৩০০টি আসনের মধ্যে ৩৯টির সীমানায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে ইসি। কিন্তু নানা দাবি-আপত্তি ওঠে ৮৩টি আসনের বিষয়ে। এরমধ্যে সীমানায় পরিবর্তন আনা এবং বর্তমান সীমানা বহাল রাখার আবেদনও আছে।
ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আশাদুল হক জানিয়েছেন শুনানির প্রথম দিন রোববার কুমিল্লা অঞ্চলের ৬ জেলার ১৮টি আসনের আবেদন শুনানি হয়েছে। এরমধ্যে ইসির প্রস্তাবের পক্ষে (দাবি) ৩৮২টি ও বিপক্ষে (আপত্তি) ৪২৯টির আবেদন শুনেছে ইসি।
সোমবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ জেলার ২০টি আসনের আপত্তি আবেদন ২৩টি ও পক্ষে ২৭৫টি আবেদনের শুনানি হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা অঞ্চলের ২৮টি আসনে ৩০৯টি আবেদনের শুনানি হয়। এর মধ্যে ইসির প্রকাশিত খসড়ার বিপক্ষে ২৫৯টি এবং পক্ষে ৫০টি আবেদনের শুনানি হয়েছে।
বুধবার রংপুরের সাতটি, রাজশাহীর ২৩২টি, ময়মনসিংহের তিনটি, ফরিদপুরে ১৮টি এবং সিলেট অঞ্চলের দুটি দাবি আপত্তির শুনানি হবে। শুনানি শেষে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।
বুধবার শেষ দিনে রয়েছে
২৭ অগাস্ট: রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলের দাবি আপত্তির শুনানি হবে।
এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পঞ্চগড়-১, ২, রংপুর-১, কুড়িগ্রাম-৪, সিরাজগঞ্জ-২, ৫, ৬, পাবনা-১; আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-২, কিশোরগঞ্জ-১, সিলেট-১, ফরিদপুর- ১, ৪, মাদারীপুর-২, ৩, শরীয়তপুর-২ ও ৩ আসনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
৩০ জুলাই ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়।
আর বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়।
এক হাজার ৭৬০টি আবেদনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮৩টি এসেছে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে সিলেট অঞ্চলে। আর তিনটি আবেদন পড়ে ময়মনসিং অঞ্চলে।
সেপ্টেম্বরে ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এরপরই আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, ভোটকক্ষসহ আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি শেষ করবে।
সিরাজগঞ্জ চায় আসন পুনর্বহাল, পাবনা চায় বিন্যাস
শুনানি শেষে সিরাজগঞ্জের প্রতিনিধি আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০০১ সাল পর্যন্ত ৭টি আসন ছিল। ২০০৮ সালে একটি আসন কমিয়ে ৬ টি আসন করা হয়।
"আমাদের দাবি আগে চৌহালী উপজেলা ও শাহাজাদপুর উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের চারটা ইউনিয়ন মিলন মিলে যে সিরাজগঞ্জ ছয় আসন ছিল সে আসনটা আমরা ফিরে পেতে চাই। আমরা বর্তমানে বেলকুচি ও চৌহালী নিয়ে যে আসনে আছি এই আসনে আমরা থাকতে চাই না। আমরা দুর্গম ও নদীভাঙন এলাকা হিসেবে আমাদের একটিই দাবি আমরা আগের আসনে ফিরে যেতে চাই।"
পাবনার প্রতিনিধি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন বলেন, "বর্তমানে সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন রয়েছে। বেড়া উপজেলার অপরাংশ ও সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন রয়েছে। আমরা শুধুমাত্র সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন চাই। একইসঙ্গে বেড়া ও সুজানগর নিয়ে পাবনা-২ আসন চাই।"
এই দুইটি আসন বিন্যাসের প্রস্তাবনা ২০১৮ সালে ছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সীমানা পুনর্নির্ধারণ: ৮৩ আসন নিয়ে ১৭৬০ দাবি-আপত্তি ইসিতে
সীমানা নির্ধারণ: ইসিতে শুনানি রোববার থেকে চলবে চারদিন
ইসির শুনানি: বাগেরহাটের আপত্তি শুনল ইসি, ৪ আসনই বহালের দাবি