Published : 26 Aug 2025, 01:24 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে একটি আসন বাড়ানোয় গাজীপুরবাসী অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনকে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে গাজীপুরের বিএনপির নেতারা।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ঢাকা অঞ্চলের শুনানি চলছে। এতে গাজীপুরের প্রতিনিধিরা দাবি-আপত্তির শুনানিতে এসে ছোটখাটো অভিযোগ করলেও মূলত তার প্রশংসায় ভাসিয়েছে নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে।
এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। শুনানির সঞ্চালনায় ছিলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
শুনানিতে বিএনপি নেতা এ কেএ ম ফজলুল হক মিলন বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল গাজীপুরে আসন বাড়ানোর। সিইসি ও অন্য যে নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে রয়েছেন, তারা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় আপনার এক নম্বরে রয়েছেন।”
‘বেশি প্রশংসা করব না’ জানিয়ে মিলন ইসির উদ্দেশে বলেন, “আপনারা গাজীপুরবাসীর প্রতি যে বদান্যতা দেখিয়েছেন তাতে আমরা কৃতজ্ঞ, সময়যোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস এসেছে বিএনপির এই নেতার কাছ থেকে।
মিলন বলেন, “আপনাদের পাশে থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম বলেন ন্যায় সঙ্গত বিষয়ে সাড়া দেব। অধিকার আদায়ে ইসিকে সহায়তা করব।”
কৃতজ্ঞতার জবাবে শুনানি শেষে মঞ্চ থেকে ইসি সচিব বলেন, “আপনারা এসেছেন, এতেই আমরা ধন্য।”
গত ৩০ জুলাই ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়। আর গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে করা হয় ছয়টি।
বাগেরহাটবাসী আসন কমানোর ইসির কঠোর সমালোচনা করলেও উল্টোচিত্র গাজীপুরবাসীর।
গাজীপুরের ক্ষেত্রে ইসি যা প্রস্তাব করেছে-
|
আসন |
দ্বাদশ সংসদের এলাকা |
ত্রয়োদশ সংসদের প্রস্তাবিত এলাকা |
|
গাজীপুর-১ |
কালিয়াকৈর; গাজীপুর সিটির ১ থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। |
কালিয়াকৈর; গাজীপুর সিটির ১ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড। |
|
গাজীপুর-২ |
গাজীপুর সিটির ১৯ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। |
গাজীপুর সিটির ১৩ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড; গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ইউনিয়ন। |
|
গাজীপুর-৩ |
শ্রীপুর, গাজীপুর সদরের মির্জাপুর, ভাওয়ালগড়, পিরুজালী ইউপিঅ |
শ্রীপুর উপজেলা, গাজীপুর সদরের মির্জাপুর,ভাওয়াল গড় ও পিরুজালী ইউপি এবং গাজীপুর সেনানিবাস। |
|
গাজীপুর-৫ |
কালীগঞ্জ, গাজীপুর সিটির ৪০ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ড, গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ইউপি। |
কালীগঞ্জ উপজেলা। |
|
গাজীপুর-৬ |
আগে ছিল না। |
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৪ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড। |
শুনানি থেকে বেরিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, “আমাদের কয়েকজন আজকের শুনানিতে বিভিন্ন আসনে থানা, ওয়ার্ড সংযোজনের দাবি দাবি জানিয়েছেন। বাকি সবাই ইসির পক্ষে ছিলাম। আসন বাড়ানোয় আমরা কমিশনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।”
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিএনপি নেতা একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, এবার গাজীপুরে ৫টি থেকে ৬টি আসন করেছে; সেজন্য ইসির প্রতি তাদের অভিনন্দন , কৃতজ্ঞতা আছে।
“আমাদের ছোটখাটো কিছু দাবি ছিল, অত্যন্ত শালীনতার সাথে তা তুলে ধরা হয়েছে। দুয়েকটি বিষয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা আমরা মেনে নেব।”
আগের নিউজে সাবহেড যুক্ত করা যায়

নারায়ণগঞ্জের যে আপত্তি
দুপুরের আগে নারায়ণগঞ্জ ৩, ৪, ৫ আসনের আপত্তি আবেদনেরও শুনানি হয়।
শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল খন্দকার খোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, "এখানে আমি প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলাম। আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে পাঁচটি ইউনিয়নকে কেটে সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ-৩) আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
“যার ফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মানুষ রাজনৈতিক, সামাজিক ও ভৌগোলিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। সেই বঞ্চনার কথা উপস্থিত কমিশনকে আমি জানিয়েছি।"
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এ আসনে সমন্বিতভাবে রাজনীতি হলেও এখন ‘বৈষম্য বাড়বে’ বলে মনে করেন তিনি।
খন্দকার খোরশেদ বলেন, "এখন যদি একটা বিরাট অংশ বিভক্ত হয়ে সোনারগাঁওয়ের সাথে চলে যায়। আমরা এতদিনে যেই নেতাকর্মী তৈরি করেছি তাদের মধ্যে অনেকে প্রার্থী আছে। আমরা সকলে বঞ্চিত হব।"
খোরশেদের কথায়, সবচেয়ে বড় কথা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে যে প্রশাসনিক অখণ্ডতার কথা বলা হয়েছে সেই অখণ্ডতার বিষয়টা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
সীমানার কারণে আগামী ‘নির্বাচনেও আটকে যেতে’ পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
"আশা করি অবশ্যই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে তারা আমাদের দাবি পুনর্বিবেচনা করবে। নতুবা আমরা মনে করি আগামী যে নির্বাচন এই জনগণের কাঙ্খিত নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে এই ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেখানে আমরা মনে করি যে এগুলো হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট করলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে।"
পূর্ব নির্ধারিত যে সীমানা ছিল সেই সীমানায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সাবেক যুবদল নেতা।
আইনজীবী মোহম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, "প্রস্তাবিত পাঁচ আসনের ভিতরে তিনটি থানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সিদ্ধিররগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সদর এখন বন্দরের একাংশ। তিনটি থানা নিয়ে আমাদেরকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।"
তার ভাষ্য, “সিদ্ধিররগঞ্জ দীর্ঘদিন যাৎ একটা ফুটবলের মত হয়ে গেছে। আমরা প্রথমে ছিলাম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের, পরবর্তীতে গেছি আমরা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আর ২০০৮ সালের পরে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এখন নতুন করে আমাদেরকে বলা হচ্ছে প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে যে আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত।
"আমরা চাই সোনারগাঁয়ের সাথে থাকতে। ২০০৮ সালে সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ মিলে আসন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৩, তেমনি করতে হবে।"
নির্বাচনের জন্য ৩০০টি আসনের মধ্যে ৩৯টির সীমানায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে ইসি। কিন্তু নানা দাবি-আপত্তি ওঠে ৮৩টি আসনের বিষয়ে। এরমধ্যে সীমানায় পরিবর্তন আনা এবং বর্তমান সীমানা বহাল রাখার আবেদনও আছে।
এক হাজার ৭৬০টি আবেদনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮৩টি এসেছে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে সিলেট অঞ্চলে। আর তিনটি আবেদন পড়ে ময়মনসিং অঞ্চলে।
২৪ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি চলবে চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত; এই চারদিন দাবি-আবেদন নিষ্পত্তি করে চুড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ: ঢাকা অঞ্চলের আপত্তি-পরামর্শ শুনছে ইসি