Published : 04 Sep 2025, 04:25 PM
কেউ আস্থার জায়গায় ‘নেই’ মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, এই ‘আস্থাহীনতা’ জাতীয় সংকট।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “সবচেয়ে মুশকিল হয়ে গেল কি, আমি আপনি আপনারা, সবাই মিলে কেউ কিন্তু আস্থার জায়গায় নেই।
“আমি আস্থার জায়গায় আছি, এই দাবি করি না। এই যে আস্থার সংকট এটা আমাদের জাতীয় সংকট।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩ জুলাই ‘সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নীতিমালা, ২০২৫’ জারি করে নির্বাচন কমিশন-ইসি।
রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) নেতারা এ নীতিমালা নিয়ে ভিন্নমত, আপত্তি তুলে ধরেছেন বৈঠকে।
সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকলে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ ‘বিঘ্নিত’ হবে।
নীতিমালার খসড়া নিয়ে সাংবাদিকদের দাবি বিশ্লষণ করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম।
কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বৈঠকে ছিলেন না।
পরে কমিশনে নীতিমালা নিয়ে আরএফইডির দাবির বিষয়ে আলোচনা হবে তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “প্রত্যেকটা বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা দরকার রয়েছে। আপনাদের দিক থেকেও আমাদেরকে সহযোগিতা করুন। বাস্তবতার নিরিখে যার যার অবস্থান থেকে যাতে আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারি, সেজন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করব।”
তিনি বলেন, “মূল উদ্দেশ্য যেহেতু আমাদের সবার একটাই, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এগুলো পরবর্তীতে সমাধান করা যায়।”
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য জারি করা নীতিমালায় ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার ও গোপন কক্ষের ভেতরে গিয়ে ছবি তোলায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরো কিছু যুক্ত করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন; পরে প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করে তথ্য, ছবি ও ভিডিও নেবেন; একসঙ্গে দুজনের বেশি সংবাদকর্মী ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না; ভেতরে থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ মিনিট ও ভেতরে নির্বাচনী কর্মকর্তা, এজেন্ট বা ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না।
আরএফইডি নেতারা বলছেন, সাংবাদিকদের ওপর এমন কড়াকড়ি আরোপ করলে অনিয়ম রোধে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন করতে হবে।
সংগঠনটির দাবি-
>> অনুমোদিত সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করার বিধান বাদ দেওয়া।
>> গোপনকক্ষের ছবি ধারণে বারণ থাকলেও নির্বাচনী অনিয়মের সময় এটি প্রযোজ্য হবে না।
>> এক সাথে অন্তত পাঁচজন সাংবাদিককে ভোটকক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
>> গণমাধ্যম প্রতিনিধিকে বাধা দিলে দোষী সাব্যস্ত করার বিধান যুক্ত করা।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আপনারা-আমরা সবাই স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। একটি স্বচ্ছ ভোটের জন্য আপনাদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
“সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি লিখিতভাবে দিয়েছেন। এটি পর্যালোচনা করে আপনাদের জন্য সহজ হয়, যেটা উভয় পক্ষের জন্য, মানুষের জন্য, স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেটা ভালো হয়, সেটা ইনশাল্লাহ করা হবে।”
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বরাবরের মতো স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যে খোলা মাঠে ভোটগ্রণের পক্ষে মত দেন।
স্বচ্ছ ভোট আয়োজনের বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন. “স্বচ্ছ নির্বাচন যদি চান তাহলে, খোলা জায়গায় নির্বাচন করার মানসিকতা তৈরি করেন, সেটাই হবে স্বচ্ছ নির্বাচন। তা নাহলে স্বচ্ছ নির্বাচন কখনও হবে না।
“এত সাংবাদিককে একসাথে ভোটকক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমদ অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালা উপস্থাপন করেন এবং তা ইসির কাছে হস্তান্তর করেন। আর সঞ্চালনা করে আরএফইডি সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
পুরনো খবর: