Published : 12 May 2026, 05:14 PM
আওয়ামী লীগের শাসনামলে 'পেটোয়া বাহিনী' হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া পুলিশ নিজস্ব 'ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার' করতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন বাহিনী প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।
পাশাপাশি পুলিশে এখন শৃঙ্খলা 'ফিরে এসেছে' বলেও বিশ্বাস তার।
পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
এদিন আইজি'জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছরে পুলিশ বাহিনীকে একটি পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করার কারণে আমরা যে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে আমরা আমাদের ইমেজকে রিগেইন করতে পেরেছি এবং আমাদের শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।"
বক্তব্যে তিনি দেশের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য 'বড় চ্যালেঞ্জ' হিসেবে মাদককে চিহ্নিত করার কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, "এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো মাদক বা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাকে কোন ছাড় দেওয়া হবে।"
ইতোমধ্যে পুলিশের যেসব সদস্য মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলী হোসেন ফকির।
এ সময় আইজিপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্য, পরবর্তীতে 'মানুষের কল্যাণে' প্রাণ দেওয়া পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে চব্বিশের অভ্যুত্থানে হতাহত সবাইকে স্মরণ করেন।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশ পুলিশ একটি 'ঐতিহ্যবাহী-পেশাদার' বাহিনী, যাদের প্রতিটি সদস্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমনে 'নিরলভাবে' কাজ করে যাচ্ছে।
"আজকের পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যরা তাদের সাহস নিষ্ঠা পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।"
পুরস্কারপ্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি প্রত্যাশা করি, আজ যারা সম্মাননা পাচ্ছেন তারা আগামী দিনে আরো নিষ্ঠা-সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।"
এদিন গেল বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে 'পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫' দেওয়া হয়। আইজিপি তাদেরকে ব্যাজ পরিয়ে দেন।
এছাড়া গেল বছরের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটগুলোকেও পুরস্কৃত করা হয়।
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে 'ক' গ্রুপে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
'খ' গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
'গ' গ্রুপে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রথম, মাগুরা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে।
'ঘ' গ্রুপে র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ প্রথম, র্যাব-১৫, কক্সবাজার দ্বিতীয় ও র্যাব-২, ঢাকা তৃতীয় হয়েছে।
'ঙ' গ্রুপে ডিবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও মিরপুর বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে 'ক' গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
'খ' গ্রুপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ প্রথম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
'গ' গ্রুপে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ প্রথম, শেরপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও গাজীপুর জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
'ঘ' গ্রুপে র্যাব-১৫, কক্সবাজার প্রথম, র্যাব-৯, সিলেট দ্বিতীয় ও র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ তৃতীয় হয়েছে।
'ঙ' গ্রুপে ওয়ারী বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও মতিঝিল বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
'চ' গ্রুপে হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় এবং এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে।
শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে যৌথ মেট্রোপলিটন দল, দ্বিতীয় এপিবিএন দল এবং তৃতীয় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ দল।