১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতারণা: গ্রেপ্তারের পরদিন গায়ক নোবেলের জামিন

আপসের শর্তে জামিনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Feb 2026, 03:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে তার আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টাসহ প্রতারণা ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তারের পরদিন জামিন দিয়েছে আদালত। 

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ মঙ্গলবার আপসের শর্তে জামিনের আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষে সাজিদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, "গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বেশ কিছু অপকর্মের হিস্ট্রি আছে তার। আসামি অ্যারেস্ট হওয়ার পর বাদীর সাথে আপোসের কথাবার্তা চলছে।"

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী।

বিচারক বাদীর কাছে জানতে চান, “আপসের কথা হয়েছে?”

তরুণী বলেন, ‘হ্যাঁ’।

এরপর বিচারক দুইজনের কাছে জানতে চান তারা আপস চান কি না। জবাবে দুইজনই 'হ্যাঁ' বলেন।

নোবেলের আইনজীবী মো. রানা শেখ আপসের বিষয় তুলে ধরে জামিন প্রার্থনা করেন।

পরে আগামী ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেয় আদালত।

এর আগে এদিন দুপুরে নোবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা। ২ টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।

আসামির কাঠগড়ায় রাখার পর এসময় বাদীর সাথে কথা বলেন নোবেল। আইনজীবী ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে নোবেলের কাছে যান। এসময় নোবেল বাদীকে খোঁজেন। পাশে থেকে সাড়া আসে। তখন নোবেল বাদীর কাছে জানতে চান যে, ‘আমি কি করবো, সাইন করব?”

বাদী বলেন, ‘হ্যাঁ’।

‘তাহলে কি হয়ে যাবে?’ নোবেলের এমন প্রশ্নে বাদী বলেন, ‘হ্যাঁ’।

পরে শুনানি নিয়ে আদালত থেকে এক হাজার টাকা মুচলেকায় নোবেলের জামিনের আদেশ আসে।

জামিনের আদেশ শুনে নোবেলকে হাসতে দেখা যায়।

এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন নোবেলকে দেখতে আসেন। নোবেল তাদের বলেন যে তার জামিন হয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, “জেলে যাওয়া লাগবে না। তোমরা যত জটিল ভেবেছিলে, এত জটিল না। এক কথায় জামিন হয়ে গেছে।"

গত বছরের ১৩ অগাস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই তরুণী। 

আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

তরুণীর মামলায় আবারো গ্রেপ্তার নোবেল