অক্টোবরে পাঁচ দশকের তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ময়মনসিংহে

এবার বর্ষা এসেছে একটু বিলম্বে, বিদায়ও নিচ্ছে দেরিতেই।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Oct 2023, 12:59 PM
Updated : 6 Oct 2023, 12:59 PM

শরতের শেষ সময়ে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলছে অতি ভারি বর্ষণ। টানা কয়েকদিন ধরে চলা এমন অঝোর ধারা শনিবার থেকে কমার আভাস রয়েছে।

এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে ৩৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অক্টোবর মাসে পাঁচ দশকে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতও হয়েছিল ময়মনসিংহেই। সেখানে ১৯৭১ সালের ২ অক্টোবর ৩৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছিল। আর দেশের ইতিহাসে অক্টোবরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় নোয়াখালীর হাতিয়ায়; ২০১৬ সালের ১১ অক্টোবরে সেখানে ৪০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়।

“এখন মৌসুমী বায়ু বিদায় নিচ্ছে। বাংলাদেশে অক্টোবরের এ সময় বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে এবং ওয়েস্টারলির প্রভাবে বেশ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এবারও তেমনটি ঘটেছে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা।”

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর গাঙ্গিনারপাড়, ধোপাখোলা, চরপাড়া, নতুন বাজার, স্টেশন রোড, নয়াপাড়া, ব্রাহ্মপল্লী, কালীবাড়ি, গুলকিবাড়ি, আমলাপাড়া, ভাটিকাশরসহ নগরীর অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে।

এসব এলাকার বাসাবাড়ি দোকানপাট, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যায়। অনেককে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। শুক্রবার সকালের মধ্যে বেশকিছু এলাকার পানি নেমে গেলেও সানকিপাড়া, গুলকিবাড়ী, কপিক্ষেত, আকুয়া, ভাটিকাশরসহ বেশ কিছু এলাকায় বিকালে পর্যন্তও পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদ জামান বলেন, “আমার ৪০ বছরে এমন বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা কখনও দেখিনি। এলাকার প্রত্যেকটা বাসায় পানি উঠে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কমপক্ষে ১৫ দিন আমাদের এর রেশ টানতে হবে। বৃষ্টি না হলে দুইদিনের মধ্যে পানি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

অক্টোবর মাসে গত পাঁচ দশকে একদিনে অন্তত আটবার ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, এর মধ্যে ময়মনসিংহে দুইবার; দিনাজপুর, ফেনী, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, নোয়াখালীর হাতিয়া ও খেপুপাড়া স্টেশনে এমন বৃষ্টি দেখা গেছে।

শুক্রবারও সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছে।

Also Read: টানা বর্ষণে তলিয়েছে ময়মনসিংহ নগরী, মাছ-ফসলের ক্ষতি

Also Read: শনিবার থেকে কমতে পারে বৃষ্টির দাপট

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ বর্তমানে পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায়; খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে ।

চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মৌসুমী বায়ু (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে বিদায় নিতে পারে।

এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকলেও ভারি বৃষ্টিজনিত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার কিছু স্থানে স্বল্প মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সাধারণ বাংলাদেশে বর্ষাকাল শুরু হয় জুন মাসে, শেষ হয় সেপ্টেম্বর মাসে। তবে এবার বর্ষা এসেছে একটু বিলম্বে, বিদায়ও নিচ্ছে দেরিতেই।

গত অগাস্টে ভারি বর্ষণে পার্বত্য অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই সময় প্রতিদিন ২০০-৩২২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। ৬ ও ৭ অগাস্ট বান্দরবানে ২৬৮ মিলিমিটার ও ২৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ৭ অগাস্ট চট্টগ্রামে এ মৌসুমের (২৪ ঘণ্টায়) সর্বোচ্চ ৩২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।

যেকোনো মাসের নিরিখে এ পর্যন্ত একদিনে দেশে সর্বোচ্চ ৫৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে, ২০০১ সালের ১৪ জুনে। চট্টগ্রামেই ২০১২ সালের ২৬ জুন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়।