Published : 21 Jun 2026, 08:32 PM
ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকার সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, রাষ্ট্রীয় হেফাজত কোনো অবস্থাতেই জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হতে পারে না।
রোববার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও তুলেছে সংস্থাটি।
আসক বলছে, “নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার সময় তাকে (প্রান্ত) শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। পরিবারের এই অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর বিষয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।”
এদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) নামে ওই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে তাকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটকের তথ্য দিয়েছিল জেলার গোয়েন্দা পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, ডিবি হেফাজতে মারধরের কারণে প্রান্ত মারা গেছেন। তবে ডিবি পুলিশ বলছে, ওই তরুণকে মারধর করা হয়নি, বরং শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মির্জা এসকেন্দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বাবা মারা যাওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে সংসার চালাতেন। তার মা ও এক ভাই রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রান্তকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে প্রচার করছেন।
ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান তার সঙ্গে প্রান্তের তোলা ছবি সংযুক্ত করে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
প্রান্তের মামা মিন্টু মোল্লা বলেছেন, প্রান্ত আগে কলেজে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে চলত। তবে সংগঠনে তার কোন পদ-পদবি ছিল না।
শনিবার সন্ধ্যায় মধুখালীর গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করার তথ্য দেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন।
তার দাবি, আটকের পরে প্রান্তকে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়। এরপর মাদক সংক্রান্ত আরও অভিযান শেষে ভোরে তাকেসহ মোট ৪ জনকে ফরিদপুর শহরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রোববার সকালে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি আসক বলেছে, “রাষ্ট্রীয় হেফাজত কোনো অবস্থাতেই জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হতে পারে না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারকে অক্ষুণ্ণ ও সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবন রক্ষায় বাধ্য।”
রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন তরুণের মৃত্যু জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে করে মন্তব্য করে সংগঠনটি বলছে, “এ ধরনের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত অপরিহার্য; যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করা যায় এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হয়।
“একইসঙ্গে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রদান এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।”
ফরিদপুরে ডিবির হেফাজতে থাকা যুবকের মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ