Published : 31 Jul 2024, 09:40 PM
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ ২১টি দল ২০২৩ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ে জমা দিয়েছে নির্বাচনে কমিশনে (ইসি)।
বাকি ২৩ দল এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর থেকে প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করে ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর।
আইন অনুযায়ী পরপর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনি সহায়তা ও সমন্বয় শাখার উপ সচিব মাহবুব আলম শাহ জানান, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব নিবন্ধিত দলের অডিট রিপোর্ট ও সময় বাড়ানোর আবেদন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২১টি দল হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছে, বাকি ২৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
তিনি বলেন, “সময় বাড়ানোর আবেদনগুলোর বিষয়ে কমিশনের কাছে সিদ্ধান্ত চেয়ে নথি উপস্থাপন করা হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যেসব দল অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা, এলডিপি, গণতন্ত্রী পার্টি, ইসলামি ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি-জেপি, এনপিপি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশের বিপ্লবি ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে দেওয়া হয় গত ২৭ জুন।
২০২৩ পঞ্জিকা বছরে দলটি ২৭ কোটি ১৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছে, যেখানে আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৭১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৮ টাকা।
আওয়ামী লীগ গত বছরের ব্যয় দেখিয়েছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তাতে উদ্বৃত্ত থেকেছে ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার ১৮৯ টাকা। আর বছর শেষে স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ কোটি ৫৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর আওয়ামী যে ২৭ কোটি টাকা আয় করেছে, তার মধ্যে ১৬ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এসেছে কেবল মনোনয়ন ফরম বেচে। অন্যান্য ফরম বেচে এসেছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। মাসিক চাঁদা বাবদ আয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। মেঘনা ব্যাংক অনুদান হিসেবে দিয়েছে ১ কোটি ১ লাখ টাকা।
এর আগে ২০২২ পঞ্জিকা বছরে দলটি ১০ কোটি ৭১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৮ টাকা আয় দেখিয়েছে। আর ব্যয় দেখিয়েছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৯ টাকা।
নির্বাচন কমিশনে গত সোমবার ২০২৩ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপি। সেখানে দেখা গেছে, ২০২২ সালের তুলনায় গত বছর দলটির আয় কমেছে ৮১ শতাংশ।
বিএনপি গত বছরের আয় দেখিয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।
২০২২ সালে বিএনপির আয় দেখানো হয় ৫ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬৩২ টাকা। ব্যয় হয় ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ টাকা।
বিএনপির একদিন পর ইসিতে ২০২৩ পঞ্জিকাবর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
সেখানে দেখা গেছে, ভোটের বছর ২০২৩ সালে জাপা আয় করেছে দুই কোটি ২২ লাখ দুই হাজার ৪০৫ টাকা। আর ব্যয় করেছে এক কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ টাকা।
ব্যাংকে আগের স্থিতি নিয়ে বর্তমানে দলটির তহবিল রয়েছে দুই কোটি নয় লাখ ৬১ হাজার ৩০৬ টাকার।
এর আগে ২০২২ সালে তাদের আয় হয় ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪২ টাকা। ব্যাংকে স্থিতি ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ টাকা।
সময় চেয়েছে যে ২৩ দল
আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে যেসব দল এক মাস সময়ের আবেদন করেছে সেগুলো হলো- জাসদ, গণফ্রন্ট, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ন্যাপ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন-বিটিএফ দুই মাস সময় চেয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও তারা কতদিন চেয়েছে তা উল্লেখ করেনি।