Published : 21 Jun 2026, 12:57 PM
হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানিলন্ডারিংয়ের পর এবার দুর্নীতির মামলায় সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল দুদক।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বলেন, দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গেল ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ফেনীতে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ গত ১১ মে বনানী থানার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৮ মে তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত ২৩ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন এদিন।
এদিন শুনানিকালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। ৭ হাজার ১২৪ জন মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছে হতে নির্ধারিত ফি'র বাইরে অতিরিক্ত টাকাসহ মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন তিনি। ওই টাকা নানা অবৈধ উপায়ে তিনি পাচারও করেছেন। ”
এ অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে।
আবেদনে আরও বলা হয়, “মামলার আসামিদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি' নিয়ে ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
“অবৈধভাবে গৃহীত ওই টাকা পাচারে তিনি প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন। পাচার করা অর্থের বিষয়ে তথ্য উদ্ধারের জন্য তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা বিশেষ প্রয়োজন। এজন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।”
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়।
সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা থাকলেও আসামিরা অতিরিক্ত টাকা নেয়। আসামিরা রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতি করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার আদায় করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের উপপরিচালক মোহা. নুরুল হুদা বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ চারজনকে আসামি করা হয়।